ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬

মাদারীপুরের শিবচর লকডাউন, বের হলেই শাস্তি

২০২০ মার্চ ১৯ ১৯:৪২:৩৪
মাদারীপুরের শিবচর লকডাউন, বের হলেই শাস্তি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকে 'লকডাউন' করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান।

করোনা প্রতিরোধে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ওষুধ ও মুদি দোকান বাদে সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, করোনা প্রতিরোধে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধের দোকান ছাড়া উপজেলার সব হাটবাজার ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না থেকে জন সাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়।

শিবচর উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুদ্দিন খান বলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। এ সময়ের মধ্যে শিবচর উপজেলায় থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখান থেকে বেরও হতে পারবেন না।

মানুষ যাতে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে রাস্তায় পুলিশি টহল থাকবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় পাওয়া গেলে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানান তিনি।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জায়গা যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য লকডাউন করা হলো।

এই উপজেলায় সম্প্রতি ৬৩৯ মানুষ ইতালি, গ্রিস, স্পেন কিংবা জার্মানি থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ১৮ দিনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ৬ শতাধিক প্রবাসী বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন মাত্র ৮০ জন।

শিবচর উপজেলা লকডাউন করা হতে পারে - এমন একটি ইঙ্গিত বিকেলেই দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে বিশেষ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে বিদেশ ফেরত অনেক মানুষজন কোয়ারেন্টাইন মানছেন না, কিছু এলাকায় অনেক বেশি বিদেশ ফেরত মানুষ অবস্থান করছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, ফরিদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রয়োজনে লক ডাউন করার কথা ভাবছে সরকার।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যে ১৭ জনের দেহে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এসব এলাকার বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা খবর পাই, ওখানকার লোক কোয়ারেন্টাইনেও বেশি, বিদেশে থাকেও বেশি। সেজন্য এসব জায়গাকে আমরা মোর ক্রিটিক্যাল (বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) মনে করি। আগামীতে যদি ওখানে সত্যিই বেড়ে যায়, তাহলে আমরা লকডাউন করবো।


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর