ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬

টালমাটাল গানের বাজার

২০২০ মার্চ ১৮ ০০:০৯:২০
 টালমাটাল গানের বাজার

গত বছরটি সংগীতের জন্য একদমই ভালো যায়নি। বিশেষ করে গান প্রকাশের সংখ্যা ছিলো একেবারে কম। এর বাইরে হাতেগোনা কয়েকটি বাদ দিলে

বাকি গানগুলো তেমন একটা শ্রোতাপ্রিয়তা কিংবা সফলতা অর্জন করতে পারেনি। এরই মধ্যে চলতি বছরের আড়াই মাস পার হয়েছে। নতুন বছর নিয়ে আশা ছিল অনেক। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। কারণ এ বছর এখন পর্যন্ত সংগীতের অবস্থা কেবল নিচের দিকেই নামছে। গান প্রকাশের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি এই সাড়ে তিন মাসে প্রকাশিত কোনো গানই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। গেল ভালোবাসা দিবসের অডিও বাজার একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আর আসছে পহেলা বৈশাখের অবস্থা আরো নাজুক হতে চলেছে। কারণ মন্দা বাজারের সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা ভাইরাসের বিষয়টি। এরই মধ্যে এ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। যার ফলে নতুন গান প্রকাশের দিকে ঝুঁকছে না অডিও প্রতিষ্ঠানগুলো। বরং যে গানগুলো পহেলা বৈশাখে প্রকাশের কথা

ছিল তার কিছু স্থগিত করা হয়েছে। তাছাড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কয়েকটি পহেলা বৈশাখের গানের মিউজিক ভিডিওর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে করোনা ভাইরাসের জন্য। শুধু যে নতুন গান কিংবা ভিডিওতে এর প্রভাব পড়েছে তা নয়, গত কয়েকদিনে বেশ কিছু স্টেজ শো বাতিল করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষেও কিছু শো হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোরও বেশির ভাগ বাতিল করা হয়েছে। এমনকি পহেলা বৈশাখের শোও বাতিলের ঘোষণা এসেছে।

এরই মধ্যে স্টেজে ব্যস্ত বেশ ক’জন শিল্পীর কাছ থেকে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও আতঙ্ক না কাটা পর্যন্ত স্টেজ শো এখন আর তেমন আয়োজন হবে না। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শো বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংগীতের সার্বিক অবস্থা টালমাটাল। একই রকম অবস্থা প্লেব্যাকেরও। কারণ বেশ কিছু সিনেমা মুক্তির তারিখ যেমন পেছানো হয়েছে তেমনি নতুন ছবির ঘোষণাও আসছে কম। যার ফলে সিনেমার গানও তেমন একটা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর বলেন, আমরা সবাই এখন একটা ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। করোনা এবং এর পরবর্তী ফলাফল কি হবে আমরা জানি না। শিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীরা এখন অনেকটাই বেকার। শো আয়োজন তেমন হচ্ছে না। কারণ জীবনের চাইতে কোনো কিছুই বেশি নয়।

আমরা সবাই মিলে এ সমস্যাটা মোকাবিলা করতে পারবো বলেই বিশ্বাস। এ বিষয়ে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা বলেন, স্টেজ শো, শুটিং সবই বাতিল হচ্ছে। আমারও বেশ কিছু শো বাতিল হয়েছে। আশা করছি করোনা ভাইরাসের এই প্রভাব দ্রুতই কেটে যাবে। এদিকে চলতি সময়ের টালমাটাল গানের অবস্থা প্রসঙ্গে লেজারভিশনের কর্ণধার ও এমআইবির সভাপতি একে এম আরিফুর রহমান বলেন, গত বছর থেকেই গানের অবস্থা ভালো না। আমরা নিজেরাও নতুন গান কম করছি।

নতুন বছরের সাড়ে তিন মাসে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরো অবনতি হয়েছে। কারণ একদিকে ওয়েলকাম টিউন থেকে আয় আসছে না, আবার অন্যদিকে ইউটিউব থেকেও আয়ের পরিমাণ কমেছে। সব মিলিয়ে অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। বিভিন্ন চ্যানেল নাটক ও ওয়েব সিরিজে ঝুঁকছে। কারণ গানের চ্যানেলকে টিকিয়ে রাখতে হলে নাটক কিংবা ওয়েব সিরিজ করতে হবে। না হলে টিকে থাকাও সম্ভব হবে না। করোনার প্রভাবে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। নতুন গানের প্রতি ঝোঁকও তাই কমেছে। তবে এই পরিস্থিতি খুব দ্রুতই কেটে যাবে- সেটাই কেবল প্রত্যাশা করতে পারি।


সঙ্গীত এর সর্বশেষ খবর

সঙ্গীত - এর সব খবর