ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬

একুশের নাটক ও নাটকের ভাষা

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৬:২১:১৪
একুশের নাটক ও নাটকের ভাষা

একদিন পরই মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অন্য বছরের মতো এবারও সাড়ম্বরে পালিত হবে দিনটি। অন্যান্য বিষয়ের মতো টিভিতে এ দিবসের বিশেষ নাটক প্রচার হবে এবারও। একুশের চেতনায় কতটুকু রাঙিয়েছে নাট্যাঙ্গন কিংবা বাংলা নাটকে ভাষার ব্যবহার কেমন হচ্ছে- এসব বিষয় নিয়েই এবারের

প্রতিবেদন। যে ভাষার ব্যবহারের জন্য রক্ত ঝরাতে হয়েছে সেই শুদ্ধ বাংলাভাষা আজ অনেকটাই দায়সারাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বত্র। বিশেষ করে টিভি মাধ্যমে। এফএম রেডিগুলোর অবস্থা তো যাচ্ছেতাই! একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি ও ভাষা নিয়ে বইমেলা ছাড়া তেমন কোনো আয়োজন চোখে পড়ে না টিভিতে। ফেব্রুয়ারি মাসটির অন্যান্য দিনও দেদার টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রচার হয় বিকৃত ভাষার নাটক। একুশের নাটক নির্মাণে চ্যানেলগুলোর মধ্যে অর্থসংস্থানের বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। আর নাটকে সঠিক ভাষা ব্যবহারের জন্য কিন্তু অতিরিক্ত অর্থও খরচ করতে হয় না।

এর জন্য দরকার আন্তরিক সদিচ্ছা। এ মাসটিতে দর্শক কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে একুশের চেতনা বেশি উজ্জীবিত থাকে। কিন্তু মানুষের সেই আবেগের কতটুকু চাহিদা পূরণ করতে পারছে টিভি নাটক কিংবা টিভি নাটকে ভাষার ব্যবহার কিংবা একুশের চেতনা কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে- এ নিয়ে কথা হয়েছিল জ্যেষ্ঠ কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে। সবাই ভাষার সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘বাংলাভাষায় কথা বলছি- এটিই যথেষ্ট। শুদ্ধ কিংবা চলিত হচ্ছে কিনা- এটি দেখতে হবে।

আগে একমাত্র টিভি চ্যানেল হিসেবে বিটিভিতে যে ভাষার ব্যবহার হতো সেটি সবাই ফলো করত। এখন তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মাধ্যম আবিষ্কৃত হয়েছে। ডিজিটাল থেকে এক ধরনের ভাষা তৈরি হচ্ছে।বাংলাভাষা অনেক বড় একটি বিষয়। ছোটখাটো বিষয়ের জন্য বাংলাভাষাকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করা ঠিক হবে না। উর্দুর পরিবর্তে আন্দোলন করে আমরা বাংলাভাষা পেয়েছি। যেহেতু অন্য সব জায়গায় ভাষার বিকৃত ব্যবহার হচ্ছে সেহেতু নাটকেও সেটা দেখা যাচ্ছে। তবে এ প্রাণের ভাষাকে যেন কেউ বিকৃত না করেন তার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

টিভি নাটকে বাংলাভাষার অপব্যবহার নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। দীর্ঘ সময় ধরে নাটকে সঠিকভাবে বাংলাভাষাকে উপস্থাপনের জন্য সোচ্চার এ অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আর কী বলব? বলে কি খুব বেশি উপকার হয়? কেউ কি সচেতন হয়? আমি তো অনেকদিন ধরেই নাটকে বাংলাভাষার ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছি। যার যার বিবেক, সততা নিয়ে কাজ করলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটান সম্ভব হবে।

এ মিডিয়ায় কাজ করে আমি যদি জনপ্রিয়তা অর্জন করে থাকি, আমারও তো তাহলে কিছু দায় থাকে। এ পেশায় কাজ করে যদি নিজের সুদিন এসে থাকে তাহলে এ অঙ্গনের প্রতি আমার দায়িত্ব থাকা উচিত। দায়িত্ববোধের জায়গাটি যদি সবার থাকে তাহলে এমন অব্যবস্থাপনা হওয়ার কথা নয়। নাট্যাঙ্গনে যা যা ঘটছে এর জন্য মোটামুটি সবাই দায়ী।

একা কিন্তু কেউ সুন্দর থাকতে পারে না। এতে করে আমাদের কাজের জায়গাটি যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এককভাবে কেউ ভালো থাকতে পারবে না।’ অভিনেতা ও নির্মাতা মাহফুজ আহমেদও নাটকে বাংলাভাষার সঠিক ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাভাষার জন্য এত ত্যাগ পৃথিবীর অন্য কোনো জাতিকে করতে হয়নি। আমরাই একমাত্র জাতি ত্যাগের বিনিময়ে, রক্তের বিনিময়ে ভাষা পেয়েছি। এ ভাষাকে এত সহজে বিকৃত করা কিংবা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়।

মুজিববর্ষে সরকার যেন কঠোর হয়, প্রকৃত বাংলাভাষা যেন কেউ বিকৃত করতে না পারে।’ এ বিষয়ে অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন বলেন, ‘টিভি নাটকে বাংলাভাষার ব্যবহার নষ্ট হয়ে গেছে এখন থেকে আরও পনেরো বছর আগে। যেটিকে আমরা শুদ্ধ বাংলা বলছি এবং যেটিকে আমরা প্রচলিত বাংলা বলছি- এ প্রচলিত এবং শুদ্ধ বাংলার বাইরে আরেকটি বাংলা তৈরি হয়েছে নাটকের ক্ষেত্রে। সেটা কী রকম- আমি হয়তো ভাষাগতভাবে দর্শকদের বলতে পারব না।

দর্শক যারা নাটক দেখে তারা বুঝতে পারে- এ ভাষাটি প্রচলিতও নয় বা শুদ্ধও নয়। এর মাঝামাঝি কোনো ভাষা। আমরা যারা অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত কিংবা নাটকে অভিনয় করি, যাদের সাধারণ মানুষ অনুসরণ করেন তাদের শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের দায়িত্ব নেয়া উচিত।’


নাটক এর সর্বশেষ খবর

নাটক - এর সব খবর