ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

কমতে কমতে দেশে সিনেমা হল এখন ৬০টি

২০২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০:৫৬:২৩
কমতে কমতে দেশে সিনেমা হল এখন ৬০টি

বাংলাদেশে সিনেমা হল কমতে কমতে শূণ্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। তথ্য নিয়ে জানা গেলো দেশে সচল সিনেমা হলের সংখ্যা এখন মাত্র ৬০ থেকে ৭০টির মধ্যে। অথচ দু তিন বছর আগেও সিনেমা হলের সংখ্যা ২৫০ থেকে তিন শ’ এর ঘরে ছিলো। তারও আগের

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সারা দেশে ১ হাজার ৪৩৫টির মতো সিনেমা হল সচল ছিলো। সেখানে এখন কেবল মাত্র ৬০! এখন দেশের অনেক জেলা শহরে কোন সিনেমা হল নেই। এরমধ্যে রয়েছে বরগুনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, নড়াইল, মুন্সীগঞ্জ, নরসংদী, পঞ্চগড়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ ২৫টি জেলা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন সমকালকে জানান এ তথ্য।

প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ২০০০ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল এলাকায় ৪৭টি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেখানে মাত্র ১০টি হল টিকে আছে। যশোহরে ২১টি সিনেমা হলে স্থলে এখন মাত্র ৪টি সিনেমা হল চালু রয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার ৩১ টি সিনেমা হলের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৫টি। বন্ধ হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান, নাজ, মুন, মুকুল, সদরঘাটের রূপমহল, আরমানিটোলার শাবিস্তান, পোস্তগোলার ডায়না, কারওয়ান বাজার এলাকায় পূর্ণিমা ও কাকরাইলের রাজমণি ও রাজিয়া সিনেমা বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘বীর’ ।

ছবিটি মুক্তির আগে এক আলোচনা সভায় ছবিটির অন্যতম প্রযোজক মো. ইকবাল ছবিটি মুক্তির আগে হলের সংখ্যা কমে যাওয়ার একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘বীর মুক্তি দেয়ার সময় আমি অবাক হয়েছি। দেশে সিনেমা চলবে কোথায়? হলই তো নেই! ছবিটি মুক্তি দিতে গিয়ে দেখলাম দেশে হলের সংখ্যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০ এর মধ্যে।’ এই সিনেমা হলগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে নানা মত।

অনেকেই ভালো সিনেমা নেই বলে হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। কেউ আবার বলছেন হল নেই বলেই সিনেমা ব্যবসা খারাপ। তাই ভালো সিনেমাও নির্মিত হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে ক্রমশই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিনেমা হলগুলো । যে ৬০টি সিনেমা হল এখনও সচল রয়েছে সেগুলোও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সিনেমা হল বন্ধের বিষয়ে ভালো সিনেমা নির্মাণ না হওয়াকে দায়ি করছেন প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। তিনি বলেন, সিনেমাগুলো ব্যবসা করতে পারছে না বলেই সিনেমা হল উঠে যাচ্ছে।

‘দু-একটা ছবি যে বছরে ব্যবসা করছে তা বলছিনা। এতে কি সিনেমা হল টিকে থাকবে?। বাংলাদেশের সিনেমা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে উল্লেখ করে মধুমিতা সিনেমা হলের এ কর্ণধার বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। কয়েকটি সিনেপ্লেক্স বানানো হয়েছে। শুধু সিনেপ্লেক্স বানালে হবে না। সবার তো সিনপ্লেক্সে সিনেমা দেখার সামর্থ্য নেই। লোকাল দর্শকরা তো সেখানে সিনেমা দেখতে পারবেন না। তাই যেই হলগুলো আছে সেগুলো ঠিক করে আধুনিক করতে হবে। আর যদি দিন দিন হল হারাতে থাকে বিশাল সংকটে পড়তে হবে।

এক সময় দেশে হলই থাকবে না।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির মুশফিকুর রহমান গুলজার সিনেমা হল নেই এ হাতাশার কথাই জানালেন। কোন উত্তরণের কথা জানাতে পারলেন না তিনি। বললেন ‘আসলে সিনেমা চালিয়ে এখন হল মালিকরা লাভবান হতে পারছেন না। তাই হল ভেঙ্গে মালিকরা মার্কেট বানাচ্ছেন বা অন্য ব্যবসা করছেন। হল না থাকলে সিনেমা কীভাবে দেখবে মানুষ? তাই যেকোনো ভাবে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে হবে।

এভাবে দিন দিন হল কমতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে আশার কথা হচ্ছে, সিনেমার হল উন্নয়নে সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে আশাকরি আগামী দুই বছরের মধ্যে সমস্যা কেটে যাবে।’ সিনেমা প্রদর্শনের নতুন নতুন হল হচ্ছে। সরকারের নানা দিক থেকে নেয়া হচ্ছে এ উদ্যোগ। বেশ ক বছর ধরে এমন আশ্বাসের কথাই শোনানো হচ্ছে। পরিচালক,প্রযোজক ও শিল্পী সমিতির নেতাদের কাছ থেকে এমন আশার বানি শুনেই তুষ্ঠ হতে হচ্ছে। বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সেটা কবে দেখা যায় তার প্রতিক্ষায় আছে সিনেমাপ্রেমিরা।


মিডিয়া গসিপ এর সর্বশেষ খবর

মিডিয়া গসিপ - এর সব খবর