ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬

বিদায় মুভি মোগল

২০২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৩:৪৮:২৮
বিদায় মুভি মোগল

দেশীয় চলচ্চিত্রের দিকপাল এ কে এম জাহাঙ্গীর খান আর নেই। পাড়ি দিয়েছেন জীবনের অপর প্রান্তে। মুভি মোগলখ্যাত এই প্রযোজক বাংলা চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধিতে রেখেছেন বিশাল অবদান। চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার শূন্যতা তাই অপূরণীয়। শেষ বিদায়ে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ

করেছেন তার ছবির খ্যাতিমান শিল্পীরা- ববিতা আমাদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ভাই আর নেই- খবরটি শুনে খুব মন খারাপ হয়েছে। তার প্রযোজনায় 'নয়নমনি'সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছি। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক প্রযোজক আছেন। কিন্তু তাকে সহজেই আলাদা করা যায়। জাঁদরেল একজন প্রযোজক ছিলেন। যে জন্য তিনি মুভি মোগল উপাধি পেয়েছিলেন। শুধু প্রযোজনা করেই তার দায়িত্ব শেষ করেননি- স্ট্ক্রিপ্ট, ছবিতে কে অভিনয় করছেন, কার চরিত্র কী রকম- সব বিষয়ে তিনি খোঁজ নিতেন। রীতিমতো সব ছিল তার নখদর্পণে। মনেপ্রাণে তিনি চাইতেন চলচ্চিত্রের উন্নতি।

এ কারণে সব সময় তিনি বড় বাজেটের ছবি বানাতেন। তার অসংখ্য ছবি পুরস্কৃত হয়েছে। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে ছিলেন অনেক সাদা মনের। সবাইকে আপন করে নিতেন। আমার এখনও মনে পড়ে, যখন 'নয়নমনি' ছবির শুটিংয়ে গিয়েছিলাম তখন নিজে এসে আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন।

সবসময় শিল্পীদের তার পরিবারের লোক বলেই ভাবতেন। শুধু শিল্পীদের প্রতি নয়, চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবার সঙ্গেই অমায়িক ব্যবহার করতেন। চম্পা এ কে এম জাহাঙ্গীর খানের মৃত্যু আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। এমন শিল্পমনা প্রযোজকের শূন্যতা অপূরণীয়। তার প্রযোজিত 'প্রেম দিওয়ানা' ছবিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। সিনেমা প্রযোজনা করলেও শুটিং সেটে তিনি তেমন একটা নিয়মিত আসতেন না। বাইরে থেকে সবকিছুর দেখাশোনা করতেন। খুব সল্ফ্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি ছিলেন বিনয়ী। কখনও তাকে উচ্চ স্বরে কারও সঙ্গে কথা বলতে শুনিনি।

'প্রেম দিওয়ানা' ছবিতে কাজের সময় তার বিনয়ী স্বভাব আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। সাধারণত প্রযোজকরা শুটিং সেটে নায়ক, নায়িকা কিংবা নির্মাতার খোঁজ-খবর নেন। কিন্তু তিনি প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত সবার ভালোমন্দ দেখাশোনা করতেন। আমি বিশ্বাস করি, প্রযোজক শিল্পমনা হলে সেই কাজ অবশ্যই ভালো হয়। কে এম জাহাঙ্গীর খানের মধ্যে সেই গুণটি ছিল। রোজিনা সৃষ্টির প্রতি একজন মানুষের কতটা ভালোবাসা থাকতে পারে, তার অনেক উদাহরণ রেখে গেছেন এ কে এম জাহাঙ্গীর খান। বিনয়ী এবং নরম মনের মানুষ ছিলেন তিনি।

তার প্রতিটি ছবির শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলীর সব সময় খোঁজখবর রাখতেন। কেমন হচ্ছে ছবির নির্মাণ, তার দেখভালও করতেন শুটিং স্পটে গিয়ে। 'রঙ্গীন রূপবান', 'সম্রাট', 'শীষ মহল', 'রঙ্গীন কাঞ্চনমালা'সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে হয়। চলচ্চিত্রে তার যে অবদান, তা কথায় বলে শেষ করা যাবে না।

চলচ্চিত্রে তার বিশাল অবদানের কারণেই পেয়েছিলেন 'মুভি মোগল' খেতাব। এই খেতাবের তিনি একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। এমন একজন চলচ্চিত্র পূজারিকে হারিয়ে আমরা অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া এটাই- পরকালে তিনি যেন শান্তিতে থাকেন।


মিডিয়া গসিপ এর সর্বশেষ খবর

মিডিয়া গসিপ - এর সব খবর