ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

‘এফডিসি তো গার্বেজ’

২০২০ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৩:৪৫:১১
‘এফডিসি তো গার্বেজ’

‘ছবি মুক্তির আগে বুকিং এজেন্টকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় প্রযোজকদের। এত ভাগা দিতে দিতে তো প্রযোজকের জান শেষ হয়ে যাবে। শিল্পের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। মন্ত্রীরা কথা বললে

হবে না। শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজকেরা চলচ্চিত্রের ইতিহাস তৈরি করেছেন। তাই তাঁদেরই এসব নিয়ে ভাবতে হবে।’ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। নায়ক ও প্রযোজক শাকিব খানের প্রযোজনা সংস্থা এসকে ফিল্মসের বড় পরিসরে যাত্রা এবং মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘বীর’ ছবির মুক্তি উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজন করা হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানেই প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি মনে করেন এফডিসি ও চলচ্চিত্রের সংকটকালে চলচ্চিত্রের মানুষদের পথ বের করতে হবে। মুরাদ বলেন, ‘এফডিসি তো গার্বেজ (ভাগাড়)। কেন এমনটা হলো? কারা দায়ী? এফডিসিকে সিন্ডিকেটমুক্ত করেন। কোনো কাজই তো করা যায় না। খালি বক্তব্য দিলে তো হবে না!’ ক্ষোভ নিয়ে মুরাদ হাসান বলেছেন কথাগুলো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নায়ক আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকারের ১১ বছরে চলচ্চিত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নতি হওয়া দরকার ছিল। আলমগীরের এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এই শিল্পকে বাঁচাতে হবে। হতাশার কোনো কারণ নাই। আলমগীর ভাই বলেছেন, গত ১১ বছরে এই শিল্পের কতটা উন্নতি হয়েছে।

তাঁর এটাও বলা উচিত ছিল, কত বছরে এই শিল্পটা ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস করেছে কারা? আমরা রাজনীতির লোকেরা না। আপনারাই এই অঙ্গনের নায়ক, নায়িকা, প্রযোজক, পরিচালক, কলাকুশলী। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে ধরনের আধুনিক ছবি তৈরি হয়েছে, এখন কেন হচ্ছে না। আমরা শাবানা, ববিতা, রোজিনাদের ছবি দেখে বড় হয়েছি। যেখানে উন্নতির কথা সেখানে এমনটা কেন হলো, আপনারা সেটা খুঁজে বের করেন।

এসব নিয়ে আপনারা বসেন। আমাদের ডাকেন, আমরা শুনতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি সবকিছু করে দেবেন? তাঁর কি এত সময় আছে? আমাদেরও এত লেকচার দিয়ে কী হবে? সবাইকে কাজ করতে হবে। চলচ্চিত্র নিয়ে যা কিছু জেনেছি তার অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ। খুবই দুঃখজনক। এই শিল্পকে কেন, কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।’

বাংলাদেশের সিনেমার সুনাম এক সময় পাশের দেশ ভারতেও ছিল। কলকাতার বাংলা ছবির চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের সিনেমা। অথচ বাংলাদেশের সিনেমা বেশ কয়েক বছর ধরে পিছিয়ে পড়েছে। এগিয়ে গেছে কলকাতার সিনেমা। মুরাদ হাসান বলেন, ‘ভারত এগিয়েছে আর আর আমরা নিচে নামছি। তাঁদের মেধা আছে। অনেক ইনস্টিটিউট করেছে তারা। আমাদেরও ভাবতে হবে। পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী, চিত্রনাট্যকার তৈরি করতে হবে। আমাদের কতজন আছেন?

১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। ১৭ কোটি গল্প লেখা সম্ভব। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন একটা করে ছবির কাহিনি হতে পারে। কিন্তু লেখার যোগ্যতা ও মেধা থাকতে হবে। কাজী হায়াতের মতো যাঁরা ভাবেন, তাঁদের ভাবতে হবে। শাকিবের উত্তরসূরি কে হবেন, তা ঠিক করতে হবে।’ মুরাদ হাসান আরও বলেন, ‘আমি দেখেছি, চলচ্চিত্রে আমাদের মধ্যে একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারি না। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, কেমনে কী! দেশের চলচ্চিত্রে এখন অনেকের মানসিকতা এমন, আমার টাকা হয়েছে আমি হিরো হব। এ রকম হলে আমার ছবি কি কেউ দেখবে? হিরো হিরোর মতো, হিরোইন হিরোইনের মতো আর ভিলেন ভিলেনের মতো হতে হবে। সেন্সর বোর্ডে ছবি আটকালে আপনাদের যে পরিমাণ তদবির আসে, তা বলে শেষ করা যাবে না।

’ ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশের ৮০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘বীর’। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য ফারুক, আলমগীর, শাকিব খান, মিশা সওদাগর, ইমন, নিরব, নাদিম, পরিচালক বদিউল আলম খোকন, মালেক আফসারী, সোহানুর রহমান সোহান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ। নিজের প্রযোজিত এবং অভিনীত ‘বীর’ ছবি নিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘বেশি দিন না, চার-পাঁচ বছর আগের কথা। সকালে এক ছবিতে, দুপুরে এক ছবিতে ডাবিং বা রাতে আরেক চলচ্চিত্রে কাজ করতাম।

এভাবেই চলত আমাদের দিনকাল। দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আমাদের চলচ্চিত্র। কিন্তু হঠাৎ এক ঝোড়ো হাওয়ায় আস্তে আস্তে চলচ্চিত্রে দুর্দিন নেমে এল। তবে এদিনও থাকবে না। দিন ফিরবে আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের।’ শাকিব খানের এসকে ফিল্মসের ব্যানারে এটি মুক্তি পাচ্ছে ‘বীর’। ছবির সহ-প্রযোজক ইকবাল হোসেন। ‘বীর’ ছবিতে শাকিব খান ও বুবলী ছাড়া অভিনয় করেছেন কাজী হায়াৎ, সাদেক বাচ্চু, মিশা সওদাগর, শবনম পারভীন, নাদিম, সোহেল খান, ডন, জাদু আজাদ, শিবা শানু, দুলারী, শিশুশিল্পী সুনান প্রমুখ।

‘বীর’ ছবির আবহসংগীতের কাজ করেছেন ইমন সাহা। সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ সাগীর, শওকত আলী ইমন ও কলকাতার আকাশ সেন। গান লিখেছেন মুনশী ওয়াদুদ, কবির বকুল, ফয়সাল রাব্বিকীন ও কলকাতার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। গেয়েছেন মনির খান, কোনাল, ইমরান ও আকাশ মাহমুদ।


ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর