বলেছেন এক জার্মান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। রাতের শিফটের পর যদি ঘুম আসতে অসুবিধে হয়, তাহলে ঘুমের ওষুধ নিলে আসক্ত হয়ে পড়ার বিপদ থাকে।

তার বদলে এক কাপ চা খাওয়া, খবরের কাগজ পড়া কিংবা গোসল করা ভালো। জার্মানির বিভিন্ন শিল্প সংস্থা এবং সরকারি অফিসে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের দুর্ঘটনা বীমা সংস্থাগুলির মুখ্য সমিতিটির নাম হলো জার্মান স্ট্যাটিউটরি অ্যাক্সিডেন্ট ইনসিওরেন্স। সমিতির সাইকোলজিস্ট হিলট্রাউট পারিডন ব্যবহারিক পরামর্শ দিতেও জানেন : দিনে ঘুমোতে হলে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং ভারী পর্দা টেনে ঘর অন্ধকার করা প্রয়োজন। নানা পেশার মানুষদের নিয়মিতভাবে রাতে কাজ করতে হয় : ডাক্তার, নার্স, পুলিশকর্মী, রেলওয়ে কর্মী, কারখানা শ্রমিক। সেই সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছেন কল সেন্টারের কর্মীরা। অথচ পারিডন জানেন : শিফ্টে কাজ করাটা কোনোকালেই খুব স্বাস্থ্যকর নয়, এ ছাড়া আমাদের শরীর রাত্রে কাজের উপযোগী নয়। কিছু মানুষ নাইট শিফটে কাজ করেও সুস্থ থাকেন, কিন্তু কোনো মানুষেরই বহুদিন ধরে রাতের শিফ্টে কাজ করা উচিত নয় বলেন পারিডন।

এর কারণ : শরীরের বহু কাজ চলে ২৪ ঘণ্টার ছকে। ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন প্রধানত রাত্রে নিঃসৃত হয়। ঘুম সবচেয়ে গভীর হয় রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে। ভোরের দিকে আমরা আবার সজাগ হয়ে উঠি। এই ছন্দ ভঙ্গ হওয়ার ফলে রাতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ঘুম ব্যাহত হয়, হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ে, হজমের গোলমাল হয়। সেই সঙ্গে আরো আছে, শিফ্ট কর্মীরা সাধারণত খুব স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান না। তাঁরা বেশি ধূমপান করেন এবং শরীরচর্চা বিশেষ একটা করেন না।
অপরদিকে শিফ্টে কাজ করলে মানুষের সামাজিক যোগাযোগগুলি কমে আসে কিংবা ঢিলে হয়ে আসে। কাজেই শিফ্ট কর্মীদের নিয়মিতভাবে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করা ও যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন, যেমন খাবার সময়। সেভাবেই তাদের সপ্তাহের কোনো বিশেষ দিনে জগিং করা কিংবা কোথাও বেড়াতে যাওয়া আবশ্যক। অপরদিকে ছুটির দিনগুলোকে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড দিয়ে ভরিয়ে ফেলারও কোনো অর্থ হয় না। তা-তে শুধু উত্তেজনা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।