প্রধান ফটক পেরিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে এলাম ভেতরে। অথচ আমাকে বোকা বানিয়ে দিয়েছে একটি বাড়ির গায়ে লেখা ঠিকানা!

দেয়ালে লেখা ১০৪ গড়িয়া হাট, কলকাতা ৩৫০০। চোখ কচলে আবার তাকালাম। নাহ, আমি তো ঢাকাতেই আছি। তাহলে ঠিকানাটা ভুল নিশ্চয়ই। পরে মনে হলো, এমন ঠিকানার দেখা তো এখানেই মিলবে। কারণ, জায়গাটা যে এফডিসি। আজ যেটা কলেজ, কাল সেটাই হয়ে যাবে বিশাল এক প্রাসাদ। এই হাসপাতাল লেখা বাড়িটা, কিছুক্ষণ পরই হয়তো বদলে হয়ে যাবে পুলিশ স্টেশন।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে জেগে উঠতে শুরু করেছে এফডিসি। লোকজনের আনোগোনাও বেড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে ৪ নম্বর ফ্লোরের সামনে এসে দাঁড়ালাম। একটি রঙিন মঞ্চ তৈরি হচ্ছে সেখানে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এক দিন পরেই চলচ্চিত্রের একটি গানের শুটিং হবে সেখানে। ৪ নম্বর ফ্লোরের মতো কিছু লোকজন দেখা গেল ৩ নম্বর ফ্লোরে। তবে এখানে কোনো শুটিং হচ্ছে না। একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, শুটিং চলছে ঝরনা স্পটে। ঝরনা স্পটে এসে বেশ কিছু মানুষের জটলা চোখে পড়ল।
চলচ্চিত্র পরিচালক বেলাল আহমেদ তাকিয়ে আছেন মনিটরের দিকে। ক্যামেরার সামনে অভিনয়শিল্পী মৌসুমী ও নিলয়।
চুল ঠিক করতে করতেই সংলাপ বুঝে নিলেন মৌসুমী। সহ-অভিনয়শিল্পী নিলয়কে নিয়ে একটু দূর থেকে হেঁটে এসে হঠাৎ দাঁড়ালেন একদল তরুণের আড্ডার সামনে।
আড্ডার একজনকে মৌসুমী বললেন, ‘এই, তুমি এখানে? তোমাকে না সেদিন বাইকের পেছনে বসে ফুচকা খেতে দেখলাম।’
পরিচালকের ‘দারুণ শট, ওকে’ শুনেই হাততালি দিল সবাই। ক্যামেরার সামনে থেকে চেয়ারে এসে বসলেন নিলয় ও মৌসুমী।
এর ফাঁকে কথা বলে জানা গেল পরিচালক বেলাল আহমেদের ভালোবাসবই তো ছবির শুটিং এটি। ছবির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন মৌসুমী আর নিলয়। একটি অসম প্রেমের গল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে ভালোবাসবই তো ছবির শুটিং।