ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

নির্বাচনে আমি তো ফাঁসির আসামি না: মৌসুমী

২০১৯ অক্টোবর ০৬ ১২:০০:৫২
নির্বাচনে আমি তো ফাঁসির আসামি না: মৌসুমী

‘অদৃশ্য শক্তির’ চাপে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পীদের সমিতির নির্বাচনে তার প্যানেলের সদস্যরা মনোনয়ন ফরম জমা দিতে না পারায় একাই লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন চিত্রনায়িকা আরিফা জামান মৌসুমী।

-ডি এ তায়েব প্যানেলের আপনি ছাড়া বাকি সদস্যরা শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন না কেন?
মৌসুমী : বৃহস্পতিবারই ডি এ তায়েব ভাইয়ের জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানলাম, উনাকে জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। অদৃশ্য শক্তির কোনো একটা ঝামেলা আছে।

-সহশিল্পী ও জ্যেষ্ঠ শিল্পীরাই আপনাকে শুরু থেকেই নির্বাচনে উৎসাহিত করে আসছিলেন। ‘অদৃশ্য শক্তি’ কখন থেকে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ শুরু করলো বলে আপনি উপলব্ধি করলেন?

মৌসুমী : আমি উপলব্ধি করিনি। সবাই সবার আগ্রহেই নির্বাচন করতে চেয়েছে। কেউ কাউকে ইনফ্লুয়েন্স করেনি। সবাই যখন নির্বাচন করতে চাইছে তখন আমিও আগ্রহী হয়েছিলাম। আমাকেও কেউ ইনফ্লুয়েন্স করেনি, নির্বাচন করতেই হবে, না হলে দেশে থাকতে পারবে না-বিষয়টা এরকম না। হাসতে-খেলতে আমরা প্ল্যানটা করেছিলাম। বাকিরা বলল, চলেন আমরা নির্বাচন করি। আমি বললাম, ধুর! হুট করে হবে না; আমার অনেক ঝামেলা আছে। এতো অল্প সময়ে কীভাবে করব? ওরা বলল, সব রেডি। ভাবলাম, প্রতিবার তো এমনই হয়। যার যার মতন ফোন করে কিংবা মাঝে মাঝে বাসায় গিয়ে হাই-হ্যালো করি; সিনিয়র শিল্পীদের সালাম করে আসি-এই তো। এছাড়া ইলেকশনে আর তো তেমন কিছু থাকে না। প্রতিবারই তো ঘরে বসেই ফোনে শিল্পীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলি; এরপরে দুয়েকটা জায়গায় সালাম করে আসি। আর ভোটের দিন তো দাঁড়িয়ে থাকলেই হয়। তখন বললাম, ঠিক আছে তোমরা সবাই যদি করো তাহলে আমি করব। এই পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনে নামলাম।
এর মধ্যে রিয়াজ ও ফেরদৌস কোনো এক ইন্টারভিউয়ে হুট করে কোনো একটা সিচুয়েশনে প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ডিক্লেয়ার করে ফেলেছে। এরপর থেকে তো সাংবাদিকরা ফোন দিয়ে যাচ্ছে, ‘আপা আপনি ইলেকশন করছেন নাকি?’ বলেছিলাম, ‘কথা সত্যি, এরকম একটা প্ল্যান হয়েছে কিন্তু এখনও কনফার্ম না। কারণ আমাদের প্যানেল এখনও কনফার্ম হয়নি। এজিএম হয়নি। কিছুই হয়নি। তখনও আমি কনফিউজড ছিলাম। এই জন্য বিষয়টা খুব একটা মাথায় ঘামাইনি। এর মধ্যে ১৮ তারিখ নির্বাচনের তারিখ ডিক্লেয়ার হলো। ওরা নিজেরাই সবকিছু টাঙিয়ে দিল, শুনলাম; জানলাম। ফরম তুলতে হবে কালকের মধ্যেই; কেনা হলো। কাঞ্চন (ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্বাচন কমিশনার) ভাই পরে বলল, না একদিন বাড়ানো হলো। মনোনয়ন ফরম জমাও দিলাম।

-দুয়েকজন ছাড়া আপনার প্যানেলের সবাই পিছু হটলেন কেন?
মৌসুমী : যাদের ফরম জমা দেওয়ার কথা, সম্মতিপত্রে সাইন করার কথা তখন দেখলাম, একজন একজন করে পিছিয়ে যাচ্ছে। যে আজকে সম্মতিপত্রে সাইন করে তারই পরদিন ‘অফ’ হয়ে যায়। কেউ ফোনই ধরে না অথবা কাউকে ওই প্যানেল (মিশা-জায়েদ) থেকে দাঁড়ানোর জন্য প্রেশার দেওয়া হচ্ছে। তখন বাধ্য হয়ে সে ইলেকশন করবে না বলে ‘অফ’ হয়ে যাচ্ছে। সে কিন্তু সবসময়ই ইলেকশনে আগ্রহী ছিল। এরকমভাবে আমাদের প্যানেলের ক্যান্ডিডেটকে ‘অফ’ করানো হচ্ছে। কীভাবে কী হচ্ছে সেটা আসলে খোলাখুলি বলতে পারব না।

-এর পেছনে ক্ষমতার চর্চা দেখছেন?
মৌসুমী : ক্ষমতার অপব্যবহার বলতে যেটা বোঝায় এখানে সেটা হচ্ছে। যার যেটা না সেটা করছে। ঘরোয়া ব্যাপার ঘরোয়াভাবেই সমাধান হওয়া উচিত। এখানে যদি এখন প্রাইম মিনিস্টার তার রাষ্ট্রীয় কাজ বাদ দিয়ে একটা সংগঠনের মধ্যে বলে, তোমরা এটা করবা; এটা করবা না-তাহলে দেখতে সুন্দর লাগবে না। বিষয়টা অনেকটা এইরকম বৈষম্যের ব্যাপার হয়ে গেছে।
আমাদের পারিবারিক বিষয় আমাদের মধ্যেই সমাধান হবে। আমরা সমাধান করব। কিন্তু এখানে অন্য মানুষজনকে দিয়ে অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে ফোন দেওয়ানো হচ্ছে। আমাদের সবাইকে তো কাজকর্ম করেই খেতে হবে, শুধু সমিতি দিয়ে তো আর জীবন চলবে না। জুনিয়র শিল্পী-ভাইবোনদের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে অন্যায়ভাবে, এটা তারা দাবি করেছে। এরা (মিশা-জায়েদ প্যানেল) বলছে, না অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়নি। আমাদের সিনিয়র শিল্পীদের সহায়তায় নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন।

-আপনার প্যানেলের বাকি সদস্যরা ‘অদৃশ্য শক্তির’ চাপে পিছু হটলেন; আপনি কোনো চাপ পেয়েছেন?
মৌসুমী : আমাকে কেউ হয়তো বলছে, আমি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো। এমন এমন মানুষকে দিয়ে বলানো হচ্ছে যেন আমি ভয় পাই। বলছে, বদনাম হবে। আমি বললাম, বদনামই তো হবে। আমার একটা স্ক্যান্ডাল করবে। আমার একটা ভুল তথ্য রটাবে।
আমি তো ফাঁসির আসামি না। আর কী করতে পারবে? আমি খুনও করিনি, আমি ফাঁসির আসামিও না। ব্যাংক আমার কাছে পাঁচলাখ টাকাও পায় না। ইন্ডাস্ট্রির কোনো মানুষ আমার কাছে কোনো টাকা পায় না। আমিও পাই না। পাওয়ার আশাও নেই। আমার এমন কী ক্ষতি করতে পারবে।
যেটাই করুক আমি সেটার জন্য প্রস্তুত আছি। যেহেতু আমি দাঁড়িয়ে আর আমাকে দেখে আরও কিছু ভাই-বোন দাঁড়িয়েছে তারা না সরা পর্যন্ত আমিও সরবো না। এমনকি তারা সরে গেলেও আমি থাকব।

-এতো চাপ পাওয়ার পরও আপনি নির্বাচনে একাই লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন; এই অনুপ্রেরণা কীভাবে পাচ্ছেন?
মৌসুমী : শিল্পীরা আমাকে অনেক ভালোবাসে। সেইকারণেই তারা হয়তো আমাকে ভালো ক্যান্ডিডেট ভাবছে। আসলে কিছুই দরকার ছিল না। আমি খুব সাধারণ ও সফট একজন মানুষ। আমাকে সফট করে বোঝাতে পারলে আমি কিছুই চাইতাম না। আমি বলতাম, ইলেকশন করব না কিন্তু আমার ভাই-বোনদের প্রবলেমটা সলভ করে দাও। কিন্তু তারা করেনি। নির্বাচনে যখন এবার দাঁড়িয়েছি তখন আর পিছু হটব না। আমার পাশে কেউ না থাকলেও নির্বাচন করব। অনেকে আমাকে বলছে, মৌসুমী একা কেন? আমি বললাম, সারাজীবন আমি একা ছিলাম একাই থাকব।


সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

সাক্ষাৎকার - এর সব খবর