ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

সব পরিচালকের ইচ্ছে মতোই হয়েছে: জ্যোতি

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২০ ১১:০৩:০৫
সব পরিচালকের ইচ্ছে মতোই হয়েছে: জ্যোতি

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতা থেকেই ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। কৈশর থেকেই স্বপ্ন ছিল একজন বড়মাপের অভিনেত্রী হওয়ার, আর সেটিই তাকে এতদূর এনেছে। বলছি অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতির কথা।

টালিউডে বাংলাদেশি অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার। ছবিটির নানাধিক নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী। সেই কথোকপথনের কিছু অংশ তুলে ধরেছেন নাজমুল আহসান।

কলকাতার ছবিতে যুক্ত হলেন কিভাবে?
বাংলাদেশের আর্টিস্টরা যারা কলকাতায় কাজ করতে আসে তারা হয়তো কোনো প্রোডাকশনের ব্যানারে বা কেউ যৌথ প্রযোজনায় কোনো কাজ করছে। আমার কাজের শুরুটা একদমই ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে। একটা শর্টফিল্মে কাজ করতে গিয়ে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা। আমার অন্যান্য কাজ দেখে তিনিই আমাকে ছবিটা করার প্রস্তাব করেন। তার ইমেজ, কাজ এবং ছবিটার পরিকল্পনা ও মানটা বুঝতে পেরে আমিও রাজি হয়ে যাই।

‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’ সম্পর্কে জানতে চাই
শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত উপন্যাস অবলম্বনে ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমার সঙ্গে করেছেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে আমার প্রথম ছবি এটি। এ ছবির কারণে আমি এখানে দ্বিতীয় কোনো কাজ হাতে নেইনি। অপেক্ষা করেছি।

ছবিটিতে কি ধরনের গল্প ফুটে উঠবে?
‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’-তে উঠে আসবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও উদ্বাস্তু সমস্যা। নারীপাচার, চোরাকারবার, ধর্ম ও জাতির ভিত্তিতে সমাজের বিভেদ। এছাড়া সেখানে রাজলক্ষ্মী বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় চলে যাওয়া ছিন্নমূল পরিবারের একটি মেয়ে। পরে নারী পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে যাকে নামতে হয় দেহ ব্যবসায়ও।

শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত উপন্যাসটি অনেক পুরাতন বর্তমান সময়ের দর্শকরা গল্পটি কিভাবে নিবে? বা কাজ করতে সমস্যা হয়নি?
যারা সিনেমাটি দেখতে যাবেন তাদের অনেকেই শরৎচন্দ্রের উপন্যাসটির ধারণা নিয়ে যাবেন, আবার অনেকে হয়তে কাহিনীর এই সময়ের প্রেক্ষাপট কল্পনা করে যাবেন। আসলে কোনোটাই মিলবে না। এটাই নির্মাতার ম্যাজিক। আর পুরাতন গল্পে কাজ করতে কোনো সমস্যা হয়নি। পরিচালকের ইচ্ছে মতোই কাজটি হয়েছে। শ্রীকান্ত উপন্যাসের সঙ্গে ‘রাজলক্ষী’র অনেকটা মিল আছে। তার ছায়া নিয়েই ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’।

প্রথমবার কলকাতার ছবিতে কাজ করলেন। দুই দেশের কাজের পার্থক্য?
দুই দেশের কাজের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সাংস্কৃতিকগত যথেষ্ট পার্থক্য। কলকাতার সবাই প্রফেশনাল, চিন্তাধারায় পার্থক্য। সবই টাইম ও শিডিউল মেনটেন করে চলে। ওখানকার দর্শক আমাদের দেশ থেকে অনেক বেশি সিনেমা দেখে। পরিচালক কিভাবে দেখাতে চায় সেগুলো দেখে। এখানকার তারকাদের মতো নিজেরা সিদ্ধান্ত নেয় না।

কলকাতায় নিয়মিত হবার পরিকল্পনা আছে?
কলকাতয় নিয়মিত হবো কিনা জানিনা। যেখানে ভালো কাজ হবে সেখানেই অভিনয় করবো। সেটা মুম্বাইও হতে পারে। ছোটপর্দায় অনেক দিন থেকেই করছি না। আপাতত বড়পর্দা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। ‘রাজলক্ষী-শ্রীকান্ত’ নিয়েই ডুবে থাকতে চাই।


সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

সাক্ষাৎকার - এর সব খবর