ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

সরি, ‘বিরাট–আনুশকার প্রেমকাহিনি না’

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ ২০:০২:৪৩
সরি, ‘বিরাট–আনুশকার প্রেমকাহিনি না’

২৫ জুন, ১৯৮৩। ভারত প্রথমবারের মতো নাটকীয় জয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করল। কপিল দেবের নেতৃত্বে। আর ক্রিকেটপ্রেমী এক বাবার কোলজুড়ে একটা শিশুও জন্ম নিল। সেই জয়ের পুরো কৃতিত্ব গিয়ে পড়ল কিনা সেদিন জন্ম নেওয়া সেই শিশুটির ওপর। নাম তাঁর জোয়া সিং সোলাঙ্কি।

জোয়া বড় হলো। ক্রিকেট মোটেও পছন্দ নয় তাঁর। কিন্তু বিজ্ঞাপন কোম্পানির কার্যনির্বাহীর চাকরি সূত্রে ক্রিকেটারদের সঙ্গেই কাজ। আর দেখা গেল, জোয়া যদি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওঠাবসা করে, খান, তাহলেই নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটে ম্যাচ জিতে যায় ভারতীয় দল। তাঁকে তাই ভাবা হয় খেলা জেতার ভাগ্যকবচ। আর খেলা জেতার জন্য জোয়ার এই প্রভাবকে বলা হলো, ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’।

জোয়াকে দেবীর আসনে বসানো হলো। যতই ভারত জেতে, ততই দেবীর আসন উঁচু থেকে উঁচুতে যায়। ক্রিকেটাররাও অনুশীলন ভুলে ফুরফুরে মেজাজে খেলতে নামেন। তারপর একদিন হারল ভারতীয় দল। এবার কী হবে জোয়ার?

এ রকমই একটা ধারণা নিয়ে বই লিখেছিলেন অনুজা চৌহান। ২০০৮ সালের বেস্ট সেলার সেই বই থেকে নির্মিত হচ্ছে এই ছবি, ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’। ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করবেন দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা দুলকার সালমান এবং বলিউড তারকা সোনম কাপুর। দুই দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। সঞ্জয় কাপুর, অঙ্গদ বেদি, সিকান্দার খেরকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

গত বছর ‘কারওয়ান’ ছবি দিয়ে বলিউডে ‘পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে’ দুলকার সালমানকে। সেই ছবিতে আরও ছিলেন ইরফান খান আর মিথিলা পালকার। ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’–এর প্রচারণা চলছে পুরোদমে। তারই একফাঁকে মালায়ালাম থেকে হিন্দি ছবির অভিনয়শিল্পী হওয়ার অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হলো। ফিল্মফেয়ার প্রকাশ করেছে দুলকার সালমানের উত্তর।

দুলকার সালমান বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন হলো, হিন্দি ভাষায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শেখা। আমার ভাষা যাতে দর্শকদের “কানে না লাগে”, সেটি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর অভিনয়টা তো আমি জানি। কীভাবে অভিনয় করতে হয়, সেটা জানলে সব ভাষার ছবিতেই অভিনয় করা যায়। “কারওয়ান” ছবিতে আমি অবিনাশ নামের একটা চরিত্র করেছি। “দ্য জোয়া ফ্যাক্টর”–এ দর্শক দেখবেন, অবিনাশ নিখিলও হতে পারে।’

‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’–এ নিজের চরিত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবিতে আমি ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন। আর আমার ভেতর বিরাট কোহলি থেকে এম এস ধোনি—সবার চরিত্রের বিভিন্ন দিক এঁকেছেন অনুজা। আর আমি মোটেও পর্দার নিখিল নই। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো মিল নেই। তাই আমি একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আরও বেশি করে এই চরিত্রগুলো হয়ে উঠতে চাই। যে চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমার কোনো যোগসাজশ নেই।’

এই ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় দুই কোটিবার দেখা হয়েছে। ‘কাশ’ আর ‘পেপসি কি কসম’ গান দুটি দেখা হয়েছে প্রায় এক কোটিবার। ‘লাকি চার্ম’ গানটা তো মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

ট্রেলারের নিচে মন্তব্য এসেছে, ‘সোনম কাপুর “নারী শাহরুখ খান”। সবার সঙ্গে কী সুন্দর মানিয়ে যান। সালমান খান, অভিষেক বচ্চন, ইমরান খান, অক্ষয় কুমার, ধানুশ, ফারহান আখতার বা দুলকার সালমান। তিনি সবার পার্ফেক্ট নায়িকা!’ আর এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অনেকেই।

তবে অনেকেই ভাবছেন, ছবিটিতে নাকি বিরাট কোহলি আর আনুশকা শর্মার প্রেমকাহিনি থাকবে। কিন্তু ফিল্ম কম্প্যানিয়নের এক সাক্ষাৎকারে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন দুলকার সালমান। বলেছেন, ‘সরি, যা ভাবছেন মোটেও তা নয়। আপনার হৃদয় ভাঙার জন্য দুঃখিত। তবে এই ছবিটিও খারাপ না।’

যাঁরা বইটা পড়েছেন, তাঁদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এত চমৎকার একটা গল্প। সিনেমা কি এই বইয়ের সঙ্গে সুবিচার করতে পারবে? সেই উদ্বেগের সমুচিত জবাব দিয়েছেন দুলকার। ‘জাজমেন্টাল’ না হয়ে সিনেমাটা উপভোগ করতে বলেছেন। আর বলেছেন, ‘বই দিয়ে সিনেমা মাপতে যাবেন না। বই বই–ই। আর সিনেমা সিনেমাই।’

অন্যদিকে সোনম কাপুর দর্শকদের সিনেমাটা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, ‘মাত্র দুই ঘণ্টার ছবি। আমার মনে হয় আপনাদের খুব বেশি সময় নষ্ট হবে না।’ তবে ছবি মুক্তির আগেই সোনম কাপুর আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস দলের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রেখেছেন।

সোনমা কাপুরও ভাগ্যে বিশ্বাসী। ‘লাকি চার্ম’ শব্দটাতেই বিশ্বাস করেন তিনি। আর ‘জোয়া ফ্যাক্টর’ ছবির বিষয় লাক অর্থাৎ ভাগ্য বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ব্যাপারে সোনম বলেন, ‘সবাই মনে করে, আমি আমার পরিবারের জন্য খুব লাকি। বিশেষ করে বাবার জন্য। আমি যখন মায়ের গর্ভে, বাবা তখন “তেজাব”, “রাম লক্ষ্মণ”-এর মতো ছবিতে কাজ করেছিলেন।’

সোনম জানান, তাঁর কুণ্ডলী দেখে নাকি এক জ্যোতিষ বলেছিলেন যে তাঁর জীবনে যেসব পুরুষ আছেন, তাঁদের জন্য তিনি লাকি। তবে সোনম মনে করেন, তাঁর জীবনের পুরুষেরাও তাঁর জন্য লাকি। আর ভাগ্য তো আছেই। নিয়তিতে বিশ্বাস করেন সোনম। আর পরিশ্রম তো করতেই হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, আপাতত সোনম ‘লাল’ রংকে ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’ ছবির ‘সৌভাগ্যের রং’ হিসেবে নিয়েছেন। এই ছবির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যেই তাঁকে লাল রঙের পোশাকে দেখা যায়। তাই লাল রঙের পোশাক পরেই সব প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি জুহুর একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। ছবির সফলতার জন্য পূজা দিতে। সেখানেও তাঁকে দেখা গেছে লাল পোশাকে।


বলিউড এর সর্বশেষ খবর

বলিউড - এর সব খবর