ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

সিসিটিভির নতুন এই ভিডিওর জন্য বেঁচে যেতে পারেন মিন্নি (ভিডিও)

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ ১০:২৫:১৩
সিসিটিভির নতুন এই ভিডিওর জন্য বেঁচে যেতে পারেন মিন্নি (ভিডিও)

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের আরেকটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটি ইতো’মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ’মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

নতুন ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সি’সিটি’ভিতে ধারণ করা। এতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কু’পি’য়ে আ’হ’ত করার পর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি একাই র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় রিফাতকে রি’কশায় হাস’পাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের সামনে স্থাপন’কৃত ‘সিসি ক্যামে’রার ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে মিন্নি একাই একটি ব্যাটারি’চালিত রি’ক’শায় র’ক্তা’ক্ত ও অচেতন রি’ফা’তকে হাসপা’তালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান। এ সময় মিন্নির ডাকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মামুন নামে এক যুব’ক রি’ফাত শরী’ফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। রি’ফাতের অবস্থা দেখে হাস’পাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন মামুন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাত শরী’ফকে স্ট্রে’চারে করে হাসপাতালের জ’রুরি বিভাগে নেয়া হয়। হাসপাতালের সামনে উপ’স্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারও স’ঙ্গে কথা বলেন মিন্নি। তখনো মিন্নির জামায় র’ক্ত লেগেছিল। এরপর হাস’পা’তালের ভেত’রে যান তিনি। এর কিছু সময় পর মিন্নি’র বাবা মোজাম্মেল হোসেন ও চাচা আবু সা’লেহ হাস’পাতালে আসেন।

এরপর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাস’পাতালের সামনে একটি অ্যা’ম্বুলে’ন্স আসে। সেখানে রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জু’রুল আল’ম ওরফে জন ও তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। তখন কিছু সময় ফোনে কথা বলেন জন।

পরে অ্যাস্বুলেন্সটি হাসপা’তালের সামনে এনে রিফাত শরীফকে বহন করে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তু’ত করা হয়। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরী’ফকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। রি’ফাত’কে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যা’গ করে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ও বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে নতুন ভিডিওটি কোন ক্যা’মেরা’র ধারণ করা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গুরুতর আহত রিফা’তকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র টেকনিশিয়ান সুভাষ চন্দ্র।

সুভাষ চন্দ্র বলেন, রিফাত শ’রীফকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। ধারা’লো অ’স্ত্রে’র আ’ঘা’তে রিফাতের অবস্থা খুব খা’রাপ ছিল সেদিন। বিশেষ করে তার বাম পাশের ফু’স’ফুস ধা’রা’লো অ’স্ত্রের আঘা”তে দ্বি’খণ্ডি’ত হয়ে যায়।

এ কারণে সব ব্যবস্থা করেও তার জীবন সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে র’ক্ত দেয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।

২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফা’তকে কো’পা’নোর ঘটনায় ধারণ করা প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন ‘কো’পা’চ্ছি’ল তখন স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী মিন্নি। সন্ত্রা’সী’র সঙ্গে যু’দ্ধ করেও স্বামী’কে বাঁচা’তে পারলেন না স্ত্রী মিন্নি।

একই ঘটনায় প্রকাশিত দ্বি’তীয় ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঘটনার দিন যখন রিফাতকে কলেজ গেট থেকে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছিল সন্ত্রা’সী’রা তখন সন্ত্রা’সী’দের পেছনে ছিলেন মিন্নি।

এই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর সন্দেহের জেরে গত ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হ’ত্যা’য় মিন্নি জ’ড়িত বলে অভিযোগ তোলেন রিফাতের বাবা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ভিডি’ওর উদ্ধৃতি দেন মিন্নির শ্বশুর আ. হালিম দুলাল শরীফ। এরপরই ১৬ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিন্নিকে গ্রেফ’তার করে পুলিশ।

বহু নাটকীয়তার পর মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করে রিফাত ‘হ’ত্যা’ মা’ম’লা’র চার্জশিট দেয় পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জা’মিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছেন তিনি। রিফাত হ’ত্যা’কা’ণ্ডে’ অভিযুক্ত হওয়ার পর কারামুক্ত হয়ে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসায় অবস্থান করলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ক’রেননি মিন্নি।

তবে এ বিষয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, হাসপাতালের সামনের ভিডিওটি আমিও পেয়েছি। স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচাতে মিন্নি যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, আমার মেয়ে এ হ’ত্যা’কা’ণ্ডে’র সঙ্গে জড়িত নয়। আমার মে’য়ে’কে ষ’ড়’যন্ত্র করে এ মা’ম’লা’য় আ’সামি করা হয়েছে। আমার মেয়ে নি’র্দোষ। আমার মেয়ে ষড়’য’ন্ত্রের শি’কার।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়ছে। কিন্তু তা পারেনি তারা। এরকম আরও একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি ওই ভিডিও’টিও উদ্ধা’রের চেষ্টা চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী বলেন, নতুন ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় স্বামীকে বাঁ’চা’তে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন মিন্নি।

তদন্ত ক’র্মকর্তার তদন্তে কী আছে সেটা আমি এখনো দেখিনি। কারণ, আদালতে দেয়া পুলিশের অভি’যোগপত্রে’র কপি এখনো পাইনি আমরা। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ যদি এই ভিডিওর বিষয় উ’ল্লেখ না করে, তবে তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ হবে।

ভিডিও


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর