ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সাইফের সঙ্গে কারিনাকে দেখে কি কষ্ট পেয়েছিলেন শহীদ কাপুর

২০১৯ মে ১১ ২১:৪৫:০৮
সাইফের সঙ্গে কারিনাকে দেখে কি কষ্ট পেয়েছিলেন শহীদ কাপুর

বলিউডের এক সময়ের রোমান্টিক জুটি শহীদ কাপুর ও কারিনা কাপুর খান। সম্পর্ক চলাকালীন শহীদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অনেক ছবি করেছেন কারিনা। কিন্তু তাদের বিচ্ছেদের পর আর একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায়নি এই জুটিকে।

শহীদ-কারিনা কোনোদিনই তাদের প্রেমের সম্পর্ক লুকানোর চেষ্টা করেননি। এমনকি কারিনা শহীদের জন্য মাছ-মাংস ছেড়ে নিরামিষভোজী হয়ে গিয়েছিলেন। বিয়ে করবেন বলে জানিয়েও হঠাৎ তাদের মধুর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। ‘জব উই মেটের’ শুটিং চলাকালীনই তারা একে অপরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কী নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে দুজনের একজনও মুখ খুলেননি।

যদিও শহীদ-কারিনার সম্পর্ক ভাঙার পেছনে শোনা যায় অনেকরকম কথাই। কেউ কেউ বলেছেন অভিনেত্রী অমৃতা রাওয়ের সঙ্গে শহীদের ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেননি কারিনা। অন্যদিকে কারিনার অত্যাধিক ধরা-বাঁধা পছন্দ হচ্ছিল না শহীদের। তাদের এই দূরত্বের মাঝে ঢুকে পড়েছিলেন সাইফ আলি খান।

যদিও শহীদ ও কারিনা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনেক সুখী। শহীদের স্ত্রী মীরা রাজপুত ও তার দুই সন্তান নিয়ে বেশ ভালোই রয়েছেন। আর সাইফ-কারিনা তাদের একমাত্র সন্তান তৈমুরকে নিয়ে বেশ খুশিতেই জীবন যাপন করছেন। এসব যাই হোক সম্পর্ক ভাঙার পর কারিনাকে সাইফের সঙ্গে দেখে কি কষ্ট পেয়েছিলেন শহীদ কাপুর?

সম্প্রতি শহীদের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি যদি বলি আমার কিছুই যায় আসেনি, তাহলে মিথ্যা বলা হবে। প্রকৃতপক্ষে আমিও তো মানুষ। কারিনাকে সাইফের সঙ্গে দেখে বা এ ধরনের খবরে আমারও কষ্ট হয়েছিল। যদিও তখন আমার কিছু করার ছিল না। আমাকে বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হতো। এর মুখোমুখি হতেই হতো। আমি শুধুই ভালো স্মৃতিগেুলোই মনে রাখতে পারি এবং ভালো থাকার চেষ্টা করতে পারি।’


আরেকটি সাক্ষাৎকারে শহীদ বলেছিলেন, ‘টানা এক মাস ভীষণ কষ্টের মধ্যে কেটেছিল। আমার কাছে দুইটি অপশন ছিল। এসব থেকে বেরিয়ে আসা। আর মিডিয়ার সামনে এসব নিয়ে কোনো কথা না বলা। এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার যে কষ্ট হতো সেটা এড়িয়ে চলার জন্য শুধু সিনেমার (জব উই মেট) প্রচারে মন দেওয়া। যখন এটা ঘটেছিল তার তিন সপ্তাহের মধ্যে ছবিটি (জব উই মেট) মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।’

বিচ্ছেদের বেশ অনেকদিন পরে যেয়ে কারিনার সঙ্গে ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে শহীদ জানান, সবকিছু ভুলে এই ছবিতে কাজ করা আমার প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। কারণ ছবিতে ( উড়তা পাঞ্জাব) আমার চরিত্রটা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আবারও কারিনার সঙ্গে কাজ করা ভীষণই অস্বস্তিকর ছিল। তবে অভিনয়টা পেশা সেটা মেনে নিয়েই কাজ করি।

অন্য একটি সাক্ষাৎকারে শহীদ বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ভাঙার বিষয়ে প্রকাশ্যে বলার মতো কিছু নেই। এটা একান্তই দুজনের ব্যক্তিগত বিষয়। সবার এ বিষয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও কিছু করার নেই।’

কারিনা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সম্পর্কটা হয়তো সেই পর্যায়ে ছিল না। এটা একেবারেই ক্যারিয়ারের শুরু দিকের ঘটনা। একটা ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা একে অপরের প্রেমে পড়ি। আমরা বন্ধুর থেকে হয়তো একটু বেশিই সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম সেটা ঠিক। একদম অল্পবয়সের সম্পর্কের মতোই ছিল আমাদের সম্পর্কটা। একসঙ্গে সিনেমা দেখা, বেড়াতে যাওয়া, এইরকম। আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে একে অপরের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতাম।

শহীদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর কাজ করাটা কি অস্বস্তিকর ছিল? উত্তরে কারিনা বলেছিলেন, ‘এ ধরনের অস্বস্তিকর মানসিক অবস্থার মধ্যে শুটিং করাটা সত্যিই কঠিন, তবে কাজটা কাজই সেখানে ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব পড়া উচিত নয়। কাজের মধ্যে এনিয়ে কোনো কথা কেউই বলতেন না।’


বলিউড এর সর্বশেষ খবর

বলিউড - এর সব খবর