ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

নেইমার ফাইনালে খেলতে পারেন

২০১৪ জুলাই ০৬ ০১:১৬:০৮
নেইমার ফাইনালে খেলতে পারেন

পিঠে ও মেরুদণ্ডের কশেরুকায় আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ব্রাজিল দলের প্রাণভোমরা নেইমারের, খবরটা বড্ড বাসি! বেলা গড়ার সাথে সাথে বিশ্বের কোটি ফুটবল প্রেমীর কাছে মড়কের মত পৌঁছে গেছে এই খবর।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত দুটোর সময় মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-কলম্বিয়া। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে জিতে মাঠ ছাড়লেও, একটা চাপা কষ্ট ঠিকই থেকে যায় ভক্তদের মনে। নেইমার কি সত্যি আর খেলতে পারবে না?

সেমিফাইনালে দেখা হবে পরাক্রমশালী জার্মানির সাথে। তারপর বহু আকাঙ্ক্ষিত ফাইনাল। নেইমার ছাড়া কী করে হবে? চিন্তায় সতীর্থ-কোচের কপালে ভাঁজ পড়ার জোগাড়। যাকে নিয়ে এত চিন্তা, কী অবস্থা ব্রাজিলের সেই বিস্ময় বালকের?

প্রাথমিক রিপোর্টে অস্থির ফাটলের কথা বলা হলেও বাবার মত প্রিয় কোচ লুই ফেলিপ স্কোলারি এখনও আশা ছাড়ছেন না। জানালেন, আমার মনে হয় জার্মানির বিপক্ষে নেইমারের খেলাটা সত্যিই কঠিন। আমরা সেমিফাইনাল জিতলে যদি সম্ভব হয় সে ফাইনাল খেলবে।

কিন্তু বিবিসি স্পোর্টস কালো মেঘই দেখছে। ব্রাজিল দলের ডাক্তারের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, মেরুদণ্ডের কশেরুকায় ফাটল ধরায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার।

এবিসি নিউজের শেষ খবর অনুযায়ী আপাতত হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পে ফিরেছেন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের প্রধান এ কান্ডারী। রিপোর্ট বলছে, নেইমারের থার্ড লাম্বার ভার্টিব্রা (এল থ্রি) অর্থাৎ কোমরের উপরের তৃতীয় কশেরুকার কোথাও ফাটল আছে। মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে যে কশেরুকাগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, থার্ড লাম্বার ভার্টিব্রা তাদের মধ্যে অন্যতম।

তবে স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই পা নাড়াতে দেখা গেছে নেইমারকে। বেশিরভাগ অ্যাথলেটরা এ ধরনের ইনজুরির পর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাতে মাংশপেশীসহ শরীরের অন্যান্য অংশও ক্ষতির শিকার হয়। সেক্ষেত্রে নেইমারের পা নাড়ানো খুবই ভাল লক্ষণ বলছেন চিকিৎসকরা।

আরও আশার কথা, নেইমারের কোন নিউরাল সমস্যা নেই, অন্যথায় তাকে ডাক্তারের ছুরি-কাঁচির নিচে শুতে হত। এ ধরনের ফাটলে একমাত্র কার্যকরী চিকিৎসা হলো বিশ্রাম আর মনোবল ধরে রাখা। তবে ঠিক কতদিনে সেরে উঠবেন এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এভাবে বিশ্বজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে তার মত সেনানীর ফিরে যাওয়াটা যথেষ্ট হৃদয় বিদারক! কোটি কোটি ফুটবল পিপাসু মন তাকিয়ে ছিল তার পায়ের দিকে। হতে পারে বয়স মাত্র ২২, কিন্তু স্কোলারির মত বড় মানের কোচের ভাষায়, খেলেন বছর ৩৫ এর অভিজ্ঞ ফুটবলারের মত।

কেন তিনি বিস্ময় বালক, কেন তার কাঁধে সওয়ার হয়ে ব্রাজিল হেক্সা জয়ে স্বপ্ন দেখে- সেই আস্থার জবাব দিচ্ছিলেন বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই। পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয়। সামনে পড়ে আছে মহাগুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ আর এই সময় কি না তিনি মাঠের বাইরে!

ভক্তদের মনের কথা সবার হয়ে যেন একাই বলে দিল ‍অ্যালেক্স নামের এক ভক্তের টুইট- ফিরে এস নেইমার, আমরা তোমার হাত থেকে বিশ্বকাপ নিতে চাই!

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর

উপরে