ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

নতুন মন্ত্রিসভায় আসছেন একঝাঁক নতুন মন্ত্রী

২০১৯ জানুয়ারি ০২ ২১:১০:২৩
নতুন মন্ত্রিসভায় আসছেন একঝাঁক নতুন মন্ত্রী

আগামী ১০ জানুয়ারি আগে হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। এই মন্ত্রিসভায় একঝাঁক নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। নতুন ও পুরনোদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করবেন। আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদের দেশ পরিচালনার প্রধান লক্ষ্য, সরকারকে দল থেকে আলাদা করে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে গণভবনের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিশ্বস্তদের সঙ্গে আলাপআলোচনা শুরু করেছেন। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম গতকাল মঙ্গলবার বলেন, গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ হওয়ার পরই সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। এরপর দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আগেই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে। জাতীয় পার্টিকে এবারও মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ দ্রুতই শেষ করতে চান। গতকাল ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বিষয়ে মত দেন। ব্যারিস্টার তাপসের সঙ্গে বর্তমান সংসদের মেয়াদকাল ও নতুন সংসদের শুরুর বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচন কমিশন গতকাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নতুন এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারে কারা থাকছেন, বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়ছেন—সে আলোচনা চলছে এখন সর্বত্র। গণভবন সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজনের নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত পাঁচ বছরের মূল্যায়নে যাঁদের পারফরম্যান্স খারাপ তাঁরা সবাই বাদ পড়বেন। সে ক্ষেত্রে বয়স এবং দলীয় পদ বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানা গেছে।

গণভবনসংশ্লিষ্ট সূত্র ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভায় ডজনেরও বেশি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যারা এবার আলোচনায় আছেন তাঁরা হলেন সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডঃ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক আলী আশরাফ, শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, সাবের হোসেন চৌধুরী,মেজর জেনারেল(অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সিমিন হোসেন(রিমি), রংপুরের টিপু মুনশি,সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, কুমিল্লার আ ক ম বাহার, নেত্রকোনার রেবেকা মমিন, নরসিংদীর নূরুল মজিদ হুমায়ূন, সিলেটের ইমরান আহমেদ,

মাহবুবউল আলম হানিফ, যশোরের মেজর জেনারেল(অবঃ) নাসির উদ্দিন ও কাজী নাবিল আহমেদ, বরিশালের কর্নেল (অবঃ) জাহিদ শামিম, ঢাকার এ কে এম রহমতুল্লাহ্, টাঙ্গাইলের একাব্বর হোসেন, চট্রগ্রামের ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল ও ফজলে করিম চৌধুরী, গাজিপুরের জাহিদ আহসান রাসেল, ময়মনসিংহের মোছলেম উদ্দিন ও হাফেজ রুহুল আমীন মাদানি, সাবেক কৃতি ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শিদি, নওগাঁর সাধন চন্দ্র মজুমদার,পঞ্চগড়ের নুরুল ইসলাম সুজন, বগুড়ার আব্দুল মান্নান, হবিগঞ্জের আবু জাহির,ঠাকুরগাঁয়ের দবিরুল ইসলাম, দিনাজপুরের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জয়পুরহাটের আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মুন্সিগঞ্জের মৃণাল কান্তি দাশ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, পাবনার মকবুল হোসেন।

এছাড়াও বর্তমান মন্ত্রী সভার সিনিয়র মন্ত্রী আমির হোসেন আমু,তোফায়েল আহমেদ ,বেগম মতিয়া চৌধুরি, ওবায়দুল কাদেরকে আবারও দেখা যেতে পারেন মন্ত্রী সভায়। এই তিনজনের একজনকে সংসদের উপনেতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মির্জা আজম পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন, শাহজাহান কামাল, কাজী কেরামত আলী,নসরুল হামিদ বিপু, শাহরিয়ার আলম, জুনায়েদ আহমেদ পলক মন্ত্রী সভায় টিকে যেতে পারেন ।অর্থমন্ত্রী মুহিত বাদ পড়লে আহম মোস্তফা কামালকে অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিতে পারেন বা টেকনোক্র্যাট কেউ এ পদে আসবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বপদে টিকে যেতে পারেন।

এ ছাড়া মহাজোটের সরকার হলে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জিএম কাদের এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের পরপর তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করার বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১২ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। সূত্রঃ কালের কন্ঠ


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর