ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

যে কারণে স্বামীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অভিনেত্রী নাদিয়া

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:০৬:৩৮
যে কারণে স্বামীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অভিনেত্রী নাদিয়া

এই তো কিছুদিন আগেই আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন তমালিকা কর্মকার। অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। তার মতোই এবার বিদেশে স্থায়ী হতে চলেছেন আরেক অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ।

এক সুত্রে জানা যায়, অনেকদিন ধরেই এই নৃত্যশিল্পীর পরিবারের অনেক সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। আর সেই সুত্রেই পরিবারের সকলেই সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা।

এইতো কিছুদিন আগে অভিনেত্রী নাদিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আর তাইতো এবার গুঞ্জন উঠেছে যে, নাদিয়া সেখানে স্থায়ী হওয়ার প্লান করছেন। আর তাঁর সঙ্গে স্বামী নাঈমও সঙ্গী হচ্ছেন। এদিকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

বলা বাহুল্য যে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চিত্র তারকাদের ক্ষেত্রে নতুন কিছু নয়। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা অনেকদিন ধরেই রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

সেখানেই স্থায়ী আবাস গড়েছেন স্বপরিবারে। চিত্রনায়িকা রোজিনা থাকেন যুক্তরাজ্যে। ববিতারও অনেকটা সময় কাটে কানাডাতে, একমাত্র ছেলের সঙ্গে। তারা কালেভদ্রে দেশে আসেন, আবার ফিরে যান।

আবার অনেকেই হতাশা নিয়ে, অভিমান নিয়ে দেশ ছাড়ছেন। আর চেষ্টা করছেন বিদেশে স্থায়ী হতে। গেল কয়েকবছরে যা বাড়ছে। তারকাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাতেই চোখ বেশি তারকাদের।

যে সব তারকারা বর্তমানে বিদেশে আছেন সেসব তারকার মধ্যে রয়েছেন টনি ডায়েস- প্রিয়া ডায়েস, মিলা হোসাইন, তিন্নি, শিরীন বকুল, রোমানা, শায়না আমিন, নাফিজা জাহান, মোনালিসা, ঈশিকা খান, রিচি সোলাইমানদের নাম।

এদের মধ্যে মোনালিসা, মিলা, রিচি, ঈশিকা মাঝে মধ্যেই দেশে আসেন। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবগুলোতে দেখা মেলে তাদের। এসে নাটক-টেলিছবি ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে আবার ফিরে যান। শোবিজের অনেকেরই কাছে তারা শীতের পাখি বলে পরিচিত।

শোনা যাচ্ছে, শোবিজের একাধিক তারকা বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। নিজের ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। এই তারকাদের তালিকায় আছেন অনেক নাটক-চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা, একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক-গীতিকারসহ সংগীতাঙ্গনেরও অনেক তারকা।


নাঈম-নাদিয়া
তাঁরা যে ক্যারিয়ারের ভাটায় বিদেশমুখী হয়েছেন তা কিন্তু নয়। অনেকেই বিয়ে করে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছেতেও সেসব দেশে স্থায়ী হয়েছেন। সংসারী হতে বিদায় দিচ্ছেন প্রিয় শোবিজকে।

যে কারণে শোবিজ ছেড়ে বিদেশমুখী তারকারা

নব্বই দশক ছিল ছোটপর্দার সোনালি যুগ। চ্যানেল ছিল একমাত্র বিটিভি। এই চ্যানেল ঘিরেই রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়েছে শতাধিক তারকার।

যেমন ব্যস্ত ছিলেন আফজাল হোসেন, হুমায়ূন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা, খালেদ খান, তারিক আনাম খান, আব্দুল কাদের, জাহিদ হাসান, শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত, তৌকীর আহমেদ, বিজরি বরকতউল্ল্যাহ, আজিজুল হাকিমরা।

তেমনি ব্যস্ত ছিলেন সেই সময়ের নতুন মুখ মীর সাব্বির, লিটু আনাম, টনি ডায়েস, দীপা খন্দকার, তারিন, সুইটি, মাহফুজ আহমেদের মতো তারকারা।

ব্যস্ততায় দিন পার করতেন নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকাররাও। তারকাবহুল অনুষ্ঠানগুলো দর্শকদের বিনোদনের মূল আশ্রয় ছিল। হুমায়ূন আহমেদের মতো নির্মাতাদের নাটকগুলোতে দেখা যেত তারকাদের ছড়াছড়ি। ধারাবাহিক হলে তো কথাই নেই।

একই ফ্রেমে দেখা মিলতো আবুল হায়াত, দিলারা জামান, জাহিদ হাসান, শমী কায়সার, আজিজুল হাকিম, আসাদুজ্জামান নূর, আব্দুল কাদের, লাকী ইনাম, আলী যাকেরদের।

কিন্তু চ্যানেলের এই রাজত্বেও সেসব দৃশ্য এখন স্বপ্নের মতোই। স্যাটেলাইটের এই যুগে অর্ধশতাধিক চ্যানেল সম্প্রচারিত হচ্ছে নিয়মিত। নাটক-টেলিছবিরও কমতি নেই। কিন্তু শোবিজে বেকারত্ব বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবেই।

ঘুরে ফিরে প্রায় সব নাটকেই দেখা মিলছে চেনা মুখ। বৈচিত্র নেই যেমন গল্প-চরিত্রে, তেমনি বৈচিত্র নেই শিল্পী মুখেও। ফলে হাতেগোনা কয়েকজন বাদে ছোটপর্দার বেশির ভাগ শিল্পীর মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাধ্য হয়েই অনেকে বিকল্প পেশা খুঁজছেন। শহীদুল আলম সাচ্চু, শামস সুমন, সুবর্ণা মুস্তাফার মতো তারকাদের কেউ কেউ রেডিও-টেলিভিশনে নিয়মিত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।

কেউ আবার বন্যা মির্জার মতো সংবাদপত্রের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন। লাক্স সুন্দরী মেহরিন ইসলাম নিশার মতো কেউ কাজ করছেন ব্যাংকে। অনেকে চাকরি নিয়েছেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। কেউ নেমেছেন ফ্যাশন হাউস ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়।


নাটক এর সর্বশেষ খবর

নাটক - এর সব খবর