ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

মন পেতে রক্ত দিয়ে রিনা কে চিঠি লিখেছিলেন আমির

২০১৮ সেপ্টেম্বর ১৪ ০০:৩৩:০৩
মন পেতে রক্ত দিয়ে রিনা কে চিঠি লিখেছিলেন আমির

‘দিল‘ছবিতে আমির খান মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে পালিয়ে যান ‘হমনে ঘর ছোড়া হ্যায়, কসমো কো তোড়া হ্যায়‘গাইতে গাইতে। আমিরের রিয়েল লাইফেও কিন্তু একই ঘটনা ঘটেছে। তবে খড় ভর্তি ট্রাকের বদলে বম্বের লোকাল বাসে চেপে উনি পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন ওঁর প্রেমিকার সঙ্গে।

সত্যিকারের জীবনে মিস্টার পার্ফেকশনিষ্ট এমন ঘটনা ঘটাবেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু এমনটা সত্যিই ঘটেছিল। আমির ওঁর প্রথম স্ত্রী রিনা কে নিয়ে পালিয়ে যান।

আমিরের ঘরের ঠিক উল্টো দিকের বিল্ডিং-এ রিনা থাকতেন। দু ‘ জনের ঘরের জানলা ঠিক একে অপরের বিপরীতে ছিল। আমির মাঝে মাঝেই জানলা দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে রিনার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। আমিরই প্রথম রিনার প্রেমে পড়েন। এমনিতে আমির নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলতে ভালোবাসেন না। কিন্তু ১৯৯৯ সালে একটা সাক্ষাত্‍কারে উনি এই নিয়ে কথা বলেছিলেন।

উনি বলেন ‘জানলার সামনে আমি দরকারের থেকে বেশি সময় কাটাতাম। কয়েকদিন এইভাবে কাটানোর পর আমি আমার মনের কথা রিনাকে বলে দিলাম। আমি ওকে বললাম আমি ওকে ভালোবাসি এবং আশা করি ও এমনটাই ভাবে আমাকে নিয়ে। কিন্তু রিনা আমাকে ফিরিয়ে দিলো।

অবশ্য এটা প্রথমবার নয় যখন কোনো মেয়ে আমির খান কে ফিরিয়ে দেন। এর আগে তিনবার অন্য মেয়েরা ওঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত রিনার বেলায় উনি বেশ আশাবাদী ছিলেন। আমিরের কথায় ‘রিনার না শুনে আমি খুব আশাহত হলাম। আমি সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই। এর দু ‘ দিন পর আমি আবার রিনা কে বললাম আমার মনের কথা। কিন্তু সেবারেও ফিরিয়ে দিল ও। আমার মন ভেঙে গেল। আমি জানলার কাছে আর যেতাম না।

এরপর আমির একটা অবিশ্বাস্য কাজ করেন, উনি রক্ত দিয়ে চিঠি লেখেন রিনা কে। আমির নিজেই স্বীকার করেন এই কথা। উনি বলেন ‘আমি ভেবেছিলাম আমি যে রিনা কে কতটা ভালোবাসি এইভাবে বোঝাতে পারবো ওকে। এখন বুঝতে পারি ওটা করা আমার ঠিক হয়নি। কিন্তু সেই সময় আমার মনে হয়েছিল আমি যা করেছি ঠিক করেছি। ‘কিন্তু তাতেও রিনার মন পেলেন না আমির।

আমির যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন রিনা ওঁকে জানান উনিও আমিরের প্রেমে পড়েছেন। রিনা হিন্দু ছিলেন আর আমির মুসলিম। দু ‘ জনেই জানতেন ওঁদের প্রেম দুই বাড়ি থেকেই মেনে নেবে না। আমির আর রিনা দু ‘জনেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন আমিরের ২১ বছরের জন্মদিনের। ১৪ মার্চ, ১৯৮৬ একুশ বছরে পা দেন আমির | এর চারদিন পর ১৮ মার্চ আমির আর রিনা ২১১ নম্বর বাসে চেপে পালিয়ে যান। কয়েকজন বন্ধুও ওঁদের সঙ্গে ছিলেন | ওঁরা পালিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নেন। বিয়ের পর চুপচাপ যে যার বাড়িতে ফিরে যান। রিনার তখন ১৯ বছর বয়স। বেশ কিছুদিন বিয়ের কথা লুকিয়ে রেখেছিলেন ওঁরা। রিনা তখন কলেজে পড়ছেন আর আমিরের সেরকম কোনো রোজগার ছিল না।

১৯৮৮ তে মুক্তি পায় ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’। এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর আমিরের বিয়ের কথা সবাই জানতে পারে। ‘পাপা কহতে হ্যায় ‘গানটায় রিনা কেও দেখা যায়। যাই হোক, মিস্টার পার্ফেকশনিষ্টের লাভ স্টোরি কিন্তু পার্ফেক্ট ছিল না। রিনার সঙ্গে আমিরের ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আমির দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন কিরণ রাও কে। তবে ডিভোর্সের পরেও আমির ও রিনার মধ্যে যথেষ্ট বন্ধুত্ব আছে।


বলিউড এর সর্বশেষ খবর

বলিউড - এর সব খবর