ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫

যে কারণে ব্রাজিল সমর্থন করেন ফারুকী

২০১৮ জুন ১৩ ১৫:১৭:০৬
যে কারণে ব্রাজিল সমর্থন করেন ফারুকী

একদিকে ঈদের আমেজ অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। বাড়ির ছাদে উড়ছে কিংবা বারান্দায় দুলছে সমর্থিত দলের পতাকা। পাড়ায় মহল্লায় বন্ধু আড্ডায় কিংবা চায়ের দোকানে চলছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে বাকবিতণ্ডা।

পরিবারের ভেতরেও উঠছে চায়ের কাপে ঝড়। বাবা মেসি তো সন্তান নেইমার কিংবা বড় সন্তান আর্জেন্টিনার সমর্থক আর ছোটটি ব্রাজিলের। জার্সির দোকানগুলোতেও কাটতি বেশ। হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতারা।

বরাবরের মতো বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের বাইরেও রয়েছে সমর্থিত দল, সেই ক্ষেত্রে জার্মানির সমর্থকের সংখ্যা অন্যান্য দলের তুলনায় বেশি।

মাঠের চৌহদ্দি পেরিয়ে সমর্থনের এই উন্মাদনা সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে তারকাদের মধ্যে। আবেশ পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের চেনা তারকারা তাদের গায়ে জড়িয়েছেন নিজ নিজ সমর্থিত দলের জার্সি। ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন দল সমর্থনের।

ব্রাজিলের সমর্থক নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জানিয়েছেন তার ব্রাজিল প্রীতির পেছনের কারণ। এ ছাড়াও আলাপে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কথাও।

ব্রাজিল কেন সমর্থন করি, সেটা বলার আগে আসলে বলতে হবে সমর্থক হিসেবে আমি কেমন। সমর্থক হিসেবে আমি আসলে নিদারুণ পল্টিবাজ। আমি ফুটবল রেগুলার ফলো করি, হেন কোনো লিগ নাই, যে যে লিগ লাইভ কিংবা রেকর্ডেড দেখা সম্ভব স্যাটেলাইট টিভিতে এবং ইউটিউব মারফত, তার সবই দেখি, কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখেছি যে সমর্থনের বেলায়, আমি কখনো কখনো দোদুল্যমান।

ধরা যাক, ছোটবেলায় আমি লিভারপুল সমর্থন করতাম, ২০০২-০৩-এর পর আমি চেলসি করেছি। আবার এমনও হয় যে চেলসির সমর্থন করছি, সিজনের মাঝামাঝি একটা খেলা চলছে, সেই খেলার অর্ধেকের পর থেকে আমি চেলসির বিপক্ষ দলে যে আছে তার সমর্থন করা শুরু করেছি।

আমার সমর্থন নানাবিধ কারণে নির্ধারিত হয়। কখনো সিমপ্যাথি ইস্যু, কখনো আন্ডারডগ ইস্যু, কখনো কোচের উপর ভালোবাসা ইস্যু, কখনো কোচের উপর রাগ ইস্যু। তবে দুইটা ক্ষেত্রে আমার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। দুইটা দলের প্রতি। একটা হলো বাংলাদেশ, আরেকটা হলো ব্রাজিল। এই দুই দলের ক্ষেত্রে আমার আনুগত্যের কোনো ব্যত্যয় নাই। এখন কেন আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করি? একটু আগে আমি যে ব্যাখ্যাটা দিলাম, সমর্থন মানুষ একেক খেলায় একেকজনকে নানা রকমভাবে করতে পারে আবার সারাজীবনও এক দলকে করতে পারে। সমর্থন মানুষ নানা কারণে করে। কেউ একজন ভালো খেলোয়াড়ের জন্য করে, কেউ ম্যানেজারের জন্য করে।

আমি জানি না আমি ব্রাজিলকে কেন সমর্থন করি। একটা হতে পারে, ছোটবেলায় আমরা আমাদের পাঠ্য বইতে পেলের সম্পর্কে জেনেছি। কারণ তখন তো ইউটিউব ছিল না। এটা একটা কারণ হতে পারে। তবে আমার চোখে যেটা মনে আছে, সেটা হচ্ছে, ৮২-এর আমি দুটি খেলা দেখেছি, তখন আমি খুব ছোট। একদম খুব ছোট। কিছু বুঝি না। মানে স্কুলে বোধহয় শুরুর দিকে আছি। তো, দুইটা খেলার কথা মনে আছে। তখন একটা খেলা দেখেছিলাম আমি সম্ভবত ব্রাজিলের। ওই সময়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে যেটা যে, এত দ্রুত, এত ফাস্ট পাস বিনিময় করত, যেটা দেখে খুবই দারুণ লেগেছে, মানে একটা নাচের ছন্দে খেলত। তখনো খুব জোরদার সমর্থক হইনি। ৮৬ এ মনে হয় ব্রাজিলের জোরদার সমর্থক হই। কিন্তু এমন এক মৌসুমে জোরদার সমর্থক হই তখন সেই মৌসুমে সকল আলো চুরি করে নিয়েছেন ম্যারাডোনা। সেই মৌসুমে আমি আসলে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে নাম লেখাই।

আমার পছন্দের প্লেয়ার যে শুধু ব্রাজিলে আছে তা নয়, আমার পছন্দের প্লেয়ার ব্রাজিল আর্জেন্টিনা সব জায়গায় আছে। আর্জেন্টিনা দলে আমার পছন্দের প্লেয়ার ম্যারাডোনা, মেসি, অববিয়াসলি আনডাউটেডলি। ব্রাজিলের পছন্দের প্লেয়ারদের মধ্যে সক্রেটিস, আমার খুবই প্রিয় প্লেয়ার ছিলেন। পেলের খেলা তো আমরা দেখিনি, ইউটিউবে যা দেখেছি সেগুলো দেখে বুঝতে পারি, হি অয়াজ অ্যা লিজেন্ট। নেইমার, অবধারিতভাবে খুবই একজন অসাধারণ খেলোয়াড় এবং আমার মনে হয় যে নেইমার লিজেন্ট হওয়ার পথে আছে। আর রোনালদো, রোনালদিনহো। এ দুজনই অসম্ভব বড় মাপের খেলোয়াড়। ম্যাজিশিয়ান।

আমাদের জাতীয় দলের দুরাবস্থার কারণ আমাদের ক্লাব সিস্টেমের দুরাবস্থা। আমাদের ক্লাব সিস্টেম যদি ঠিক করা হয়, সারা দেশ জুড়ে, শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না, তাহলে আমার ধারণা- অস্বাভাবিক কিছু না। হ্যাঁ, ফুটবলে আমাদের এগোনো কষ্টকর, নানবিধ কারণ আছে। কিন্তু অসম্ভব কিছু না।


সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

সাক্ষাৎকার - এর সব খবর