ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

চীন-ভারত লড়াই: বাংলাদেশের সতর্কতা জরুরি

২০১৮ মার্চ ০৬ ১৯:০৭:০২
চীন-ভারত লড়াই: বাংলাদেশের সতর্কতা জরুরি

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে এশিয়ার দুই বৃহৎ প্রতিবেশী চীন ও ভারত। এ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইও শুরু হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে। আর এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের মতো ছোট প্রতিবেশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

গত বছর ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করে ১৫টি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন। এতে ভারত সরকার বিনিয়োগ করবে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার।

তবে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার নয়। সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন প্রকল্পে ১৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে চীনা প্রশাসন।

অর্থ ও বিনিয়োগ বিষয়ক গণমাধ্যম ওয়ার্ল্ড ফিনান্সের এক নিবন্ধে বিশ্লেষক বার্কলে বালার্ড বলেন, দুই দেশই আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার চেষ্টার অংশ হিসেবে বিনিয়োগকে বেছে নিয়েছে। এরইমধ্যে চীন এশিয়া, আফ্রিকাসহ অনেক জায়গায় এক্ষেত্রে সফল হচ্ছে। বাংলাদেশেও দুই দেশ একই লড়াইয়ে ব্যস্ত। বেইজিং চায় ঢাকার সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

বাংলাদেশের ১৫টি প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ প্রমাণ করে, চীনকে রুখতে তারাও থেমে নেই। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দেশে ৩৬টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ ও রমনা কালি মন্দির পুনর্নির্মাণ। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতেও বিনিয়োগ করবে তারা।

বাংলাদেশের ইসলামীকরণ নিয়েও ভীতিতে থাকে ভারত। তারা চায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে। এতে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে ধারণা ভারতীয় প্রশাসনের।

চেন্নাই সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ’র গবেষণা কর্মকর্তা আসমা মাসুদ মনে করেন, বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো ভালো হবে ভারতের।

প্রতিবেশী প্রায় কোনো দেশের সঙ্গেই ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব একটা ভালো না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অবস্থা বদলাতে চাইছেন। ক্ষমতায় এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে তিনি ‘নেইবার ফার্স্ট’ নীতি নিয়েছেন। তবে তাতে কাজ হচ্ছে বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা।

বার্কলে মনে করেন, বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের। তবে তার মানে এই না যে সব সমস্যা মিটে গেছে। এখনো তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আছে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য যেমন বেশি, তেমনি বেশি বাণিজ্য ঘাটতি। বাংলাদেশে একচেটিয়ে ব্যবসা করে দেশটি।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্তের একটি। প্রায়ই এখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে সাধারণ বাংলাদেশীরাও সুনজরে দেখে না ভারতকে। আর এটা মোক্ষম সুযোগ হয়েছে চীনের জন্য।

বর্তমানে চীনা বিনিয়োগের উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র বাংলাদেশ। বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে। ২০০৮ সালে চীনের অর্থায়নে মুক্তারপুর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে ছয়টি সেতু নির্মিত হলো দেশটির অর্থায়নে।

আসমা মাসুদ মনে করেন, চীনা বিনিয়োগের আরেকটি ক্ষেত্র বাংলাদেশের সামরিক খাত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সামরিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের শীর্ষ দেশ চীন। দুই দেশের মধ্যেই আছে শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক। মিয়ানমার অখুশি হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বাড়াতে ভয় পায় ভারত।’

বার্কলে মনে করেন, চীন-ভারতের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে নিজের কথা ভুলে গেলে চলবে না। দুই দেশের এই প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য ভালো হচ্ছে। তবে ভঙুর গণতন্ত্রের কারণে তা ক্ষতিকর হয়েও দাঁড়াতে পারে।

আঞ্চলিক সম্পর্ক যত বড়ছে, সম্পর্কের জটিলতাও তত বাড়ছে। বাংলাদেশকে নিজের স্বার্থের কথাই ভাবতে হবে। অতি-শক্তিশালী প্রতিবেশীদের ব্যাপারে ঢাকাকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন বার্কলে। তিনি মনে করেন, নিজের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের বিনিয়োগকেই কাজে লাগাতে হবে; তবে সবকিছু বিকিয়ে দিয়ে নয়।


জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর