ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১০ বৈশাখ ১৪২৫

যে কারণে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চান তাঁরা!

২০১৮ জানুয়ারি ১২ ১৪:১১:২৭
যে কারণে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চান তাঁরা!


বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজের কোনো কাজে আসছেন না—এই কারণ দেখিয়ে ইচ্ছামৃত্যু বা ইউথানেসিয়ার অনুমতি চেয়েছেন মুম্বাইয়ের এক দম্পতি। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। ছবিটি টুইটার থেকে নেওয়া বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজের কোনো কাজে আসছেন না—এই কারণ দেখিয়ে ইচ্ছামৃত্যু বা ইউথানেসিয়ার অনুমতি চেয়েছেন মুম্বাইয়ের এক দম্পতি। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। ছবিটি টুইটার থেকে নেওয়া

নারায়ণ লাবেতের বয়স ৮৬ বছর। তাঁর স্ত্রী ইরাবতী লাবেতের বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। নিঃসন্তান এই দম্পতি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। কিন্তু বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজের কোনো কাজে আসছেন না তাঁরা! এই কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর (ইউথানেসিয়া) অনুমতি চেয়েছেন মুম্বাইয়ের এ দম্পতি। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের কাছে সম্প্রতি স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখেছেন নারায়ণ ও ইরাবতী লাবেতে। চিঠিতে নারায়ণ লিখেছেন, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। বর্তমানে কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যাতেও তাঁরা ভুগছেন না। কিন্তু সমাজের আর কোনো অবদান রাখতে না পারায় বেঁচে থাকতে চাইছেন না তাঁরা।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের ঠাকুরদ্বার এলাকার চরনি রোডে থাকেন নারায়ণ ও ইরাবতী। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে নারায়ণ লিখেছেন, ‘এখন এই সমাজে আমাদের কোনো উপযোগিতা নেই এবং আমরা কোনো অবদান রাখতে পারছি না।’ তিনি আরও লিখেছেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে রেহাই দেওয়ার এখতিয়ার আছে। সুতরাং ‘মৃত্যুর অনুমতি’ দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর থাকার কথা।

মহারাষ্ট্র স্টেট ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের সরকারি চাকরি থেকে ১৯৮৯ সালে অবসর নেন নারায়ণ লাবেতে। তাঁর স্ত্রী ইরাবতীর বয়স এখন ৭৯ বছর। মুম্বাইয়ের একটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। ইরাবতী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই বয়সে আমরা স্রেফ বেঁচে থাকার জন্য জীবিত থাকতে চাই না। আমাদের জীবনে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তারপরও আমরা আর বেঁচে থাকতে চাইছি না।’

লাবেতে দম্পতি জানিয়েছেন, সচেতনভাবেই ইচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। হিন্দুস্তান টাইমসকে ইরাবতী বলেছেন, বিয়ের পরপরই সন্তান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুজনে মিলে। এখন বয়সের কারণে যদি তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে সেই অসুস্থতার দায় কারও ঘাড়ে চাপাতে চান না।

স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের আইন চালু আছে। সাধারণত অসুস্থতার কারণে জীবনসংকটে থাকা রোগীদের পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের অক্টোবরে এক পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে। তবে আদালত বলেছিলেন, কোনো রোগী যদি অত্যন্ত সংকটাপন্ন বা অপরিবর্তনীয় কোমায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সনদ পাওয়া সাপেক্ষে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।


বহির্বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বহির্বিশ্ব - এর সব খবর