ঢাকা, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকারা নায়ক নির্ভর

২০১৮ জানুয়ারি ১২ ০০:১১:৩৮
ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকারা নায়ক নির্ভর

শাবানার নামে সিনেমা চলতো। তাঁকে নায়ক রাজ্জাক জসিম কিংবা আলমগীর নির্ভর হতে হতো না। তাঁদের সঙ্গে হয়তো সময়ের পরিক্রমায় সফল জুটি হয়েছে। কবরি, সূচরিতা, সূচন্দাদের নামেও সিনেমা চলেছে। ববিতারও ছিল নিজস্বতা।

কিন্তু তারপর? বাংলা সিনেমা নায়ক নির্ভর হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশের সিনেমাই নায়ক নির্ভর হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সিনেমায় এই প্রথা বড্ড বেশি চোখে পড়ে। এমন কিছু নায়িকা আছেন। যারা নিজেরা স্টারের খ্যাতি পেয়েছে সত্যি, কিন্তু তার মর্যাদা নায়ক হাত ছেড়ে দিলেই ছুটে গেছে। তাঁদের পতন হতেও খুব বেশি সময় নেয়নি।

এহতেশাম পরিচালিত ‘ চাঁদনী রাতে’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের অভিষেক। প্রথম ছবিতে জুটি হিসাবে পায় সাব্বিরকে। ভাগ্য সহায় হয়নি। প্রথম ছবিটিই ব্যার্থ। এরপর মেহেদী ও অমিত হাসানের সঙ্গেও জুটি হন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘তুমি আমার’ ছবি করার পর আর পেছন দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি এ নায়িকাকে।

সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাবনূর যার সবগুলোই ব্যবসাসফল হয়। সালমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে যখন একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিচ্ছিলেন তখন তাঁকে বলা হতো নায়ক সালমান শাহ নির্ভর নায়িকা। একক যোগ্যতায় কোনো ছবিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই এবং অন্য নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেও তিনি কোনো সফলতা পাবেন না।

ঠিক এই সময়েই সালমান শাহ এর অকাল মৃত্যুতে নায়ক শুন্য হয়ে পড়েন শাবনূর। সালমানের মৃত্যুর পর শাবনূরের সঙ্গে ওমর সানী ও আমিন খানকে জুটি করে ছবি নির্মাণ করা হয়। এমনকি অমিত হাসানের সঙ্গেও বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেন শাবনূর। কিন্তু ছবিগুলো দর্শক সেভাবে গ্রহণ করেনি। এরপর নায়ক রিয়াজের সঙ্গে জুটি বেঁধে দেওয়া হয় শাবনূরকে। এ জুটি সফল হয় এবং বেশকিছু ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেয়। এরপর শাবনূর শাকিল খান, ফেরদৌস, শাকিব খান, মান্নার সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। শাবনুর সারাজীবন কোনো নায়কের ছায়াতেই রয়ে গেছেন। তাই একটা পর্যায়ে এসে হারিয়ে গেছেন।

চলচ্চিত্রে কী আরও অনেক বেশি দেওয়ার ছিল না পপির? কিন্তু একটা সময়ে এসে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। এর অন্যতম কারণ শাকিল খানের সঙ্গে তার জুটি ভেঙ্গে যাওয়া। পপি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। শাকিল খানের সঙ্গে জুটি ভাঙ্গার পর শাকিব খান সহ আরও অনেকের সঙ্গেই জুটি বাধার চেষ্টা করেন। কিন্তু সময়ের কোনো স্টারের সঙ্গে জুটি না বাঁধতে পারায় একরকম হারিয়ে যায় বলা চলে।

অপুর শুরু থেকে শেষ। সবখানেই এক শাকিব নির্ভর হয়ে অভিনয় করেন। শাকিবের বাহিরে গিয়ে দু একটা ছবিতে অভিনয় করলেও তা মুখ থুবরে পরে। সময়ের আলোচিত রিয়াজের সঙ্গেও জুটি বেধেছিল। কিন্তু ব্যবসায়িক হিসেবে তা ভালো করতে পারেনি। অপুর অন্তর্ধান কিংবা প্রস্থান। ভাবনা চিন্তা ওই এক নায়ক নির্ভরই। অপুর এখনো শাকিবের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

এরা তো আলোচিত নাম। যারা একটু কম আলোচিত । তাদের সবারই লক্ষ থাকে কোনো না কোনো সুপারস্টারের বিপক্ষে নিজেকে অধিষ্টিত করা। এই ভাবনায় হয়তো তারা সাময়িক খ্যাতি পান। কিন্তু একটা সময়ে এসে হারিয়ে যেতে হয়। কালের পরিক্রমায় প্রত্যেক নায়কের হাত ধরেই কোন না কোন নায়িকার জনপ্রিয়তা এসেছে। যখন তার সঙ্গে জুটি ভেঙ্গে গেছে।

নিজের জায়গা থেকে অনেক দূরে সরে যেতে হয়েছে। মান্নার সঙ্গে জুটি বেধেছিল মৌসুমী, দিতি , চম্পা। মান্নার সঙ্গে তাদের জুটি ভাঙ্গার পর আর কেউই সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। তেমনি পূর্নিমাও পারেনি রিয়াজবিহীন সুবিধা করতে। এ সময়ের কয়েকজনের উদাহরন টানা যায়। বুবলি এক শাকিব নির্ভর। সে হাত ছেড়ে দিলে বুবলির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। মাহী এক জাজের ঘরের সিনেমা করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবুও সে এক নায়ক নির্ভর ছিল না বলে তার অভিনয়গুন মানুষের কাছে কিছুটা হলেও প্রশংসিত হয়েছে।

পরীমনি , নুসরাত ফারিয়া , বিদ্যা সিনহা মীম হিট নায়কের সঙ্গে জুটি বাধতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে নিজেদের অবস্থানও তৈরি করতে পারেনি। এ সময়ে এসে শাকিব খান অনেকের সঙ্গেই কাজ করছে। যখন হাত ছেড়ে দিচ্ছে। নিজেরা আর আলোচনা তৈরি করতে পারেনি।

নায়ক নির্ভর সিনেমা যেমন পৃথিবীর সবদেশে প্রচলিত। তেমনি এক নায়িকা এক নায়কের উপরই নির্ভর করতে হবে। এমনটা খুব একটা নেই। নিজেদের অভিনয় দক্ষতা আর ভালো চরিত্রে নিজেকে সবখানেই ফুটিয়ে তুলতে পারে। আমাদের দেশের পরিচালকরা প্রধান চরিত্রকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবে। পাশাপাশি নায়িকাদেরও যদি তেমন গুরুত্ব দিয়ে চরিত্র নির্ধারন করতো। তাহলে একটা সময়ে এসে এমন একটা পরিস্থিতি হতো না যেখানে এক সুপারস্টারের উপর সব নির্ভর করতে হয়।


ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর