ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০ বৈশাখ ১৪২৫

জুয়েল আমার সন্তান নষ্ট করেছে : চন্দনা

২০১৮ জানুয়ারি ১১ ২৩:৫৩:১৭
জুয়েল আমার সন্তান নষ্ট করেছে : চন্দনা

স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ‘মুখোশ মানুষ’ সিনেমার নির্মাতা ইয়াসির আরাফাত জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে রমনা থানা পুলিশ। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জুয়েল আমার সন্তান নষ্ট করেছে : চন্দনা

জুয়েলের স্ত্রী চন্দন রানী শর্মা শারীরিক নির্যাতনসহ সন্তান নষ্টের অভিযোগ এনেছেন। বুধবার রাতে তিনি কথা বলেন। সেখানে জুয়েলের নির্যাতন ও ‘মুখোশ মানুষ’ নিয়ে প্রতারণার কাহিনি তুলে ধরেন।

২০১৭ সালের ৬ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে জুয়েলের বিরুদ্ধে ৯(১) ধারায় মামলা করেন চন্দনা। মামলা নং ১৩৬/১৭। তার পক্ষে মামনা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট ফারিয়া ফেরদৌস।

চন্দনা বলেন, ‘গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আমি জুয়েলের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় প্রথমে জিডি করি। এরপর সে আমাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। তখন মামলা করতে গেলে প্রথমে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কলাবাগান থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। থানা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর মামলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জুয়েল ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথমে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। দুজনের বয়সের অনেক পার্থক্য ও ধর্ম আলাদা হওয়ায় রাজি হইনি। ১২ মার্চ জুয়েল আমাকে ৮-১০ জন লোক দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনীর সামনে থেকে জোর করে তুলে নেয়।’

আরো জানান, ১৩ মার্চ জুয়েল জোর করে বিয়ে করে তাকে। এর আগের রাত ফুফাতো ভাই অ্যাডভোকেট ফয়সাল সিদ্দিকীর বাসায় আটকে রাখে জুয়েল।

চন্দনা বলেন, ‘আমি ফয়সাল ভাইয়ের পায়ে পড়েছিলাম এক-দেড় ঘণ্টা। তাকে বলেছিলাম আপনারও তো মেয়ে আছে। আমি একজন হিন্দু মেয়ে, আমার সর্বনাশ করবেন না আপনারা। কিন্তু তিনি আমার কোন কথা শুনেননি। পরদিন তার চেম্বারে আমাদের বিয়ে হয়।’

তিনি জানান, অ্যাডভোকেট ফয়সাল বিয়ের কাবিননামা না দিয়ে শুধু একটি এফিডেভেটের কাগজ দেন তাকে। বলেন, ‘এটিই বিয়ের মূল কাগজ।’ কিন্তু জুয়েলের কাছে মূল কাগজ-পত্র দেন। পরবর্তীতে জীবনের শঙ্কায় যাতে না পড়েন তাই জুয়েলকে স্বামী হিসেবে মেনে নেন বলে জানান চন্দনা।

তার ভাষ্যে, কোর্ট থেকে বের হয়ে জুয়েল তাকে হুমকি দেন। এমনকি ধর্ষণ ও মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। বাধ্য হয়ে নিয়তিকে মেনে নেন। ‘ও আমাকে ধর্মান্তরিত করল। জোর করে বিয়ে করল। আমি তখন কোথায় যেতাম? আমার বাবা-মা, সমাজ আমাকে কি মেনে নিত?’

থানায় কিংবা আদালতে যেতে পারতেন? ‘গেলে লাভ কী হতো? ও হয়তো তখন ৩-৪ মাস জেল খেটে বের হয়ে আসত। তার চেয়ে আমি চেয়েছি ও যেহেতু আমাকে ভালোবাসে তাই সংসার করতে।’— বললেন চন্দনা।

বিয়ের পর প্রথম ৩-৪ মাস ভালোই ছিলেন জুয়েল। সময়মত বাসায় ফিরতেন, স্ত্রীর কথানুযায়ী সিগারেটও ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মুখোশ মানুষ’ নাটক নির্মাণ শুরুর সময় থেকে বদলে যান। যা পরবর্তীতে সিনেমায় রূপান্তর করে মুক্তি দেওয়া হয়।

চন্দনা বলেন, ‘নাটকটির অনেক কিছুই আমার করে দেওয়া। মূল স্ক্রিপ্টে কোন অশ্লীল দৃশ্য ছিল না। কিন্তু নওশীন-হিল্লোলের (অভিনয়শিল্পী) কথায় এসব দৃশ্য ঢোকায়। আমি বাধা দিই এবং আমাকে বলে সব দৃশ্য ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

চন্দনা একুশে টেলিভিশনে নাটকটি নিয়ে যান। সেখানে অনুষ্ঠান প্রধান মজুমদার জুয়েল নাটকটিতে অশ্লীল দৃশ্য দেখে ভৎসর্না করেন।

চন্দনা বলেন, ‘তখন জুয়েল বদলে যেতে থাকে। সে আমাকে বলত আমি গুলশান আছি। অথচ তাকে আমি ছবির হাটের আড্ডায় পেয়েছি।’

জুয়েল ইয়াবাসহ নানান নেশায় আশক্ত হয়ে পরেন বলে দাবি চন্দনার। এ নেশায় সহয়তা করেন তার ভাই আহাদুর রহমান। ‘নেশা করে জুয়েল আমাকে প্রায় নির্যাতন করত। আর তাকে প্ররোচনা দিত নওশীন। কারণ তারা যে কোনভাবে হিট হতে চেয়েছিল অশ্লীল দৃশ্য সম্বলিত নাটক দিয়ে।’— বললেন চন্দনা।

একইসাথে নওশীনের সাথে জুয়েলের সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন চন্দনা।

নাটকটি যখন সিনেমায় রূপান্তরিত হয় তখনো সহায়তা করেন চন্দনা। নাটকের প্রযোজক ছিলেন পিআর প্লাসিড। আর সিনেমার প্রযোজক ছিলেন সামুজ্জদোহা। দুজনকে চন্দনা জুয়েলের কাছে এনে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে প্লাসিড ভাইয়ের কাছ থেকে নাটক বানানো বাবত টাকা ফেরত দেয়নি। এমনকি দোহা ভাইকেও না।’

সিনেমাটির মূল লেখক ছিলেন নাসির উদ্দিন। কিন্তু আহাদুর রহমানের নাম স্ক্রিপ্টে দেওয়া হয়। এ নিয়ে চন্দনা বলেন, ‘আমি নিজের নাসির ভাইয়ের কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট এনেছিলাম। জুয়েল আহাদের নাম দিয়েছিল। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে।’

চন্দনা জানান, জুয়েলের মা-বোনও তার উপর নির্যাতন করেন। ২০১৪ সালের ৪ নভেম্বর মা-বোন’সহ বাসা থেকে বের হয়ে যান জুয়েল। এর আগেই বিয়ের বিভিন্ন কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলেন তারা। এরপর জুয়েলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন চন্দনা। বন্ধু-বান্ধব ও নানা মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লাভ হয়নি।

চন্দনা অভিযোগ করেছেন জুয়েল দুবার তার সন্তান নষ্ট করান। তিনি বলেন, ‘একবার আড়াই মাসের বাচ্চা সে আমার পেটে লাথি দিয়ে নষ্ট করে দেয়। আরেকবার জোর করে দুমাসের সময়। এগুলোর সমস্ত ডাক্তারি কাগজ সে নষ্ট করে দিয়েছে।’

চন্দনা বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর আমাকে বাসায় এসে মারধর করে জুয়েল। কারণ তখন তার বিরুদ্ধে গল্প চুরিসহ নানা বিষয়ে মামলা চলছিল।’

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকে নওশীন-হিল্লোলের প্ররোচণায় জুয়েল মারধর ও নির্যাতন করেছেন এ মর্মে স্ট্যাটাস দেন চন্দনা। এ প্রেক্ষিতে হিল্লোল গুলশান থানায় আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭(২) ধারায় মামলা করেন। যার নম্বর ০৬। সে মামলায় চন্দনা দেড় মাস থানা হাজতে ছিলেন। এখনো তাকে নিয়মিত ওই মামলায় হাজিরা দিতে হয়। ‘তারা আমাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য, নতুন করে নির্যাতনের জন্য মামলাটি করে। বর্তমানে আমি এ মামলায় এক বছরের জামিনে আছি।’

এদিকে বছরখানেক আগে থানায় জিডির পর জুয়েল বলেছিলেন, ‘ওকে তো আমি দুবছর আগেই ডিভোর্স দিয়েছি। আর তিন বছর পরে কেন এসে জিডি করল। তাছাড়া নওশীনের সাথে সম্পর্কের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

সে সময়ে জুয়েল তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলেও দাবি করেন।

এসব অভিযোগের জবাবে চন্দনা বলেন, ‘ডিভোর্স দিয়ে থাকলে তার কাগজ কই?’

তিনি বলেন, ‘আমাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করল। আমি এখন চাইলেই কি আবার আমার ধর্মে ফিরে যেতে পারব? বাবা-মা আমাকে ত্যাগ করেছেন। সবার কাছে আমাকে খারাপ বানিয়েছেন। আমার দল প্রাচ্যনাটের পাভেল (অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম) ভাইয়ের কাছে নওশীন বিচার দিয়ে দল থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল। পরে পাভেল ভাইকে সব খুলে বলেছিলাম।’

সবশেষে চন্দনা বলেন, ‘প্রতিটা মেয়েই মা হবার স্বপ্ন দেখে। সে আমার সন্তান নষ্ট করেছে। নিজ হাতে তার ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছি। সে আমাকে নির্যাতন করেছে তাকে অশ্লীল দৃশ্য বানাতে দিই নাই দেখে। এখন আমার সব শেষ, আমি কার কাছে যাবো? আমার জীবন তো শেষ। এ জীবন তো আমি চাইনি।’ সূত্র: পরিবর্তন ডটকম


ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর