ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

মহাতারকা হলেও তারা এখনও সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাননি যে কারণে

২০১৭ নভেম্বর ১৪ ১৮:৫৭:৪৫
মহাতারকা হলেও তারা এখনও সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাননি যে কারণে

তারা প্রত্যেকেই বলিউডের একেক জন বড় তারকা। কেউ কেউ আবার মহাতারকা। সবারই ধীর্ঘদিনের অভিনয় জীবন। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তারা। কামিয়েছেন অনেক অর্থকড়ি। পেয়েছেন অনেক খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা। কিন্তু দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তাদের কেউই সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিততে পারেননি। চলুন তবে জেনে নেই এমন কয়েকজন বলিউড তারকা সম্পর্কে।

সালমান খান: এই তালিকায় প্রথমেই আছে ‘দাবাং’ হিরো সালমান খানের নাম। ১৯৮৮ সালে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেই হিসেবে প্রায় ২৯ বছরের অভিনয় জীবন তাঁর। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য সাত বার মনোনয়ন পেলেও এক বারও পুরস্কার জিততে পারেননি বলিউডের ভাইজান।

ক্যারিয়ারে বহু হিট ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। বলিউডের তিন খানের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয় সালমান খানকে। অর্থ, যশ, খ্যাতি কোনো কিছুতেই তাঁর কমতি নেই। সবকিছুই কামিয়েছেন দুহাত ভরে। তার পরও এই একটিমাত্র না পাওয়া তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের সাফল্যকেই ম্লান করে রেখেছে। তবে অভিষেক ছবি ‘ম্যায়নে পিয়ার কিয়া’র জন্য সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন ভাইজান।

অজয় দেবগন: ১৯৯১ সালে ‘ফুল অর কাঁটে’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল পরিচালক বীরু দেবগনের পুত্র অজয় দেবগনের। প্রথম ছবিতে তিনিও জিতে নিয়েছিলেন সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার। এর পর ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারও পেয়েছেন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করা অজয়। কিন্তু ২৬ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে এক বারও সেরা অভিনেতার পুরস্কার ঘরে তুলতে পারেননি ‘গোলমাল’ হিরো।

সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনে অজয়ের ঝুলিতে রয়েছে বহু হিট ও ব্যবসাসফল ছবি। কয়েকদিন আগেই মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘গোলমাল অ্যাগেইন’ ছবিটি এখনও চলছে দেদারছে। প্রবেশ করেছে ২০০ কোটির ক্লাবে। অর্থ, প্রতিপত্তি, জনপ্রিয়তায় তিনিও বলিউডের তিন খানের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। কিন্তু সালমান খানের মতো তিনিও রয়ে গেছেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকার বাইরে।

অক্ষয় কুমার: বলিউডের খিলাড়ি হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। বলছি অক্ষয় কুমারের কথা। ১৯৯১ সালে ‘সুগন্ধ’ নামের একটি ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু অক্ষয়ের। প্রথমদিকে অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে রম্য চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। দুই জায়গাতেই তিনি পেয়েছেন সমান জনপ্রিয়তা। অভিনয় করেছেন খল চরিত্রেও। এই খলচরিত্রের জন্যই ২০০২ সালে শ্রেষ্ঠ খল-অভিনেতার পুরস্কার জেতেন মিস্টার খিলাড়ি।

হিট ও ব্যবসাসফল ছবির হিসেব করলে অক্ষয়ের তালিকাটাও নেহাত ছোট নয়। অনেক বারই বক্স অফিস কাঁপিয়েছেন তিনি। কিন্তু সালমান, অজয়ের মতো তাঁর ক্যারিয়ারেও আছে ওই একটিমাত্র না পাওয়া। ২৬ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জোটেনি অক্ষয়ের ভাগ্যেও। এ জন্য আফসোস করতেই পারেন রাজেশ খান্নার জামাই।

অভিষেক বচ্চন: বাবা অমিতাভ বচ্চনের মতো আলো ছড়াতে পারেননি ছেলে অভিষেক বচ্চন। ২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসা অভিষেক বরাবরই বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ। তবে ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুম’ ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘ধুম’ সিরিজের তিনটি ছবিই সুপারহিট এবং ব্যবসাসফল হয়। তিনটি ছবিতেই অভিনয় করেছেন অভিষেক।

এর পরও তিনি কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বাবা অমিতাভ বচ্চন তাঁর ক্যারিয়ারে পাঁচ বার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতলেও, ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ছেলে এক বারও সেটা পারেননি। তবে সুপারস্টার ‘শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ২০০৬ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন অভিষেক। এছাড়া ‘পা’ নামের একটি ছবি প্রযোজনা করে জিতেছেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’।

শহিদ কাপুর: বলিউডে শহিদ কাপুরের ক্যারিয়ারও খুব বেশি ছোট নয়। মোটামোটি বড়ই। প্রায় ১৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন তিনি। ২০০৩ সালে ‘ইশক ভিশক’ ছবির মাধ্যমে রূপালী পর্দায় নায়ক হিসেবে আবির্ভাব হয় শহিদের। এর আগে কাজ করতেন ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে।

অভিষেক ছবিতে শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতার পুরস্কার জেতেন ড্যান্স হিরো শহিদ। কিন্তু ক্যারিয়ারে দুই বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জোটেনি শহিদের ভাগ্যেও। ১৫ বছর ধরে তিনিও রয়ে গেছেন সালমান, অজয় ও অক্ষয়দের দলে। তবে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে দুই বার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন ‘পদ্মাবতী’ ছবির এ নায়ক।

বলিউড এর সর্বশেষ খবর

বলিউড - এর সব খবর

উপরে