ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

গভীর চুমু, সবাইকে চমকে দিলেন স্বস্তিকা

২০১৪ অক্টোবর ২৮ ১৪:২৮:২৯
গভীর চুমু, সবাইকে চমকে দিলেন স্বস্তিকা

প্রথম হিন্দি ছবি ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সীতেই স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় চমকে দিয়েছেন এক সাহসী দৃশ্যের রূপায়ণে।

নায়ক সুশান্ত কিছু বোঝার আগেই গভীর চুম্বনে তাঁকে আবদ্ধ করে। ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ঠোঁটে ঠোঁট! একেবারে প্রথম হিন্দি ছবিতেই। আর তার মধ্যমণি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এবার আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেল, ছবিতে তাঁর উপস্থিতির গুরুত্বের। সঞ্জয় লীলা বনশালীর গোলিয়োঁ কা রাসলীলা- রামলীলায় রনবীর সিং আর দীপিকা পাড়ুকোনের একটি লিপ-লক সিন ছিল। রণবীরের দাবি ছিল, সেই দৃশ্যটাই অদ্যবধি বলিউডে সবচেয়ে লম্বা চুম্বন দৃশ্য। কিন্ত্ত ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সীর ইউনিট ঘনিষ্ঠদের কাছে যা খবর, তাতে মনে হচ্ছে, রণবীর-দীপিকাকে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন স্বস্তিকা-সুশান্ত জুটি। আর সেই দৃশ্যের প্ল্যানিং কী ভাবে হয়েছিল, সে গল্পও রীতিমতো রোমহর্ষক।

এমন একটা দৃশ্য যে ক্যামেরায় উঠতে চলেছে এ সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি সুশান্তকে। তাহলে পরিচালক দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায় কেমন করে শটটা বোঝালেন সুশান্তকে? দিবাকর নাকি খানিকটা আলগা চালে ভাসিয়ে দিয়ে সুশান্তকে বলেছিলেন যে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যটায় হয়তো তাঁর ঠোঁট ছোঁয়া হতে পারে। অন্যদিকে, স্বস্তিকাকে এক্কেবারে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কোন সময়ে, কেমন ভাবে স্মুচ করার দৃশ্যটা টেক করা হবে। স্বাভাবিক প্রশ্ন, কেন এমনটা করা হল? দিবাকরের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দিবাকর চাইছিলেন দৃশ্যটা এমনভাবেই হোক, যেন সুশান্তের মধ্যে একটা চমকে ওঠার প্রতিক্রিয়া থাকে। আগে থেকে ঘন চুম্বন দৃশ্যের ব্রিফিংটা পেয়ে গেলে সুশান্তের মধ্যে আর অবাক হওয়ার অভিব্যক্তিটা সহজে ফুটে উঠবে না, এমনই ভেবেছিলেন দিবাকর। সে জন্যই দৃশ্যটা সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি তাঁকে। আর রিহার্সালের তো প্রশ্নই নেই। কিন্তু যেহেতু দৃশ্যটায় স্বস্তিকা অ্যাক্টিভ, তাই তাঁকে আলাদা করে ডেকে সবটা ভালো করে বুঝিয়ে দেন দিবাকর।

দিবাকর নিজে কী বলছেন? আসলে ওই দৃশ্যটা সাধারণ কোনও চুম্বনদৃশ্য নয়। হিন্দি ছবির আর পাঁচটা চুম্বন দৃশ্যের সঙ্গে এর একটা বিরাট পার্থক্য আছে। এই দৃশ্যের মধ্যে খুন, প্রতারণা, তীব্র আবেগ সব মিলিয়ে একটা মারাত্মক ইনোশনের প্রকাশ দরকার ছিল। আমি চাইছিলাম আরও কিছু যুক্ত করতে। দৃশ্যটাকে আরও খানিক শক্তিশালী করতে। সে জন্যই এই চুম্বন। এমন একটা সারপ্রাইজ, যা এমনকি দুইজন অভিনতোর মধ্যে একজনকেও একেবারে চমকে দেবে। তাহলে কেমন করে করা হল ব্যাপারটা? পরিচালকের উত্তর, চুম্বন বাদ দিয়ে সিনটা এমনিতে যা ছিল তা আমরা বার কয়েক মহড়া দিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর দেখতে দেখতে ছটা, আটটা টেক দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল। কিন্তু কিছুতেই যেন দৃশ্যটার মধ্যে সেই চমকটা আসছিল না, যেটার জন্য আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর অন্যরকম ভাবে ভাবলাম।

তার কারণও ছিল। দৃশ্যটা যেদিন টেক করা হয়, সেদিনই ছিল দিবাকরের ইউনিটে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের প্রথম দিনের শ্যুটিং। একেবারে কমফর্ট জোনের বাইরে। ইউনিটে কাওকে চিনি না। তার ওপর আমার প্রথম হিন্দি ছবি, যশ রাজের মতো বড় প্রোডাকশন হাউজ, তারপর দিবাকরের মতো পারফেকশনিস্ট পরিচালক। আবার ভাষাটাও সম্পূর্ণ আয়ত্তে আসেনি। হিন্দির তো অদ্ভুত একটা ব্যাকরণ! একটা অপরিসীম চাপ ছিল, বলছেন স্বস্তিকা। তার মানে কি এটাই তাঁর জীবনে সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য ছিল? দৃশ্য কী বলছেন, ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী ছবির গোটাটাই আমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন কাজ, বলছেন ছবির অঙ্গুরী দেবী। তার আগে সুশান্তের সঙ্গে ভালো করে পরিচয়টুকুও হয়নি। ওকে কেবল টেলিভিশনে দেখেছি। আমার মা দেখতেন ওর ধারাবাহিকটা পবিত্র রিস্তা সেখানেই। আর ভেবেছি এই ছেলেটা টেলিভিশনে নিজেকে আটকে রেখে নষ্ট করছে কেন? কিন্তু সেদিন নেহাত হাই, হ্যালোটুকুও হয়নি। তার মধ্যে ওই রকম দৃশ্য, বলছেন স্বস্তিকা। তবে ওটা ঘটনা যে প্রথম ছবিতেই দিবাকরের মতো একজন বাঙালি পরিচালক থাকায় আমার বিরাট সুবিধে হয়েছিল, নায়িকার বক্তব্য।

কী রকম? দিবাকর বলছেন, স্বস্তিকাকে আলাদা করে ডাকলাম। স্মুচ-এর কথা বললাম। আর বললাম, ও (সুশান্ত) কোনও কিছু বোঝার আগেই স্মুচ করবে। তাহলে চমকটা আসবে। কিছু না জেনে এমন একটা ব্যাপারের মধ্যে পড়ে গেলে ওর এক্সপ্রেশনটা অনেক রিয়েল হবে। আসলে আমি জানি সুশান্ত এমন একজন অভিনেতা যে কীনা শট দেওয়ার আগে থেকে বেশ একটা প্রস্ত্ততি নিয়ে রাখে। শটের ভিতরে সারপ্রাইজ ও একেবারেই পছন্দ করে না। কিন্তু সেটাই আমি চাইছিলাম। চুম্বন বাদ দিয়ে সিনটা যেভাবে রিহার্স করা হয়েছিল সে ভাবেই টেক করা চলতে লাগলো। তারপর স্বস্তিকা হঠাত্‍ করেই ঝাঁপিয়ে স্মুচ করলো। ওকে সরে যাওয়ার কোনও সুযোগই দিল না। সেটের সকলে অবাক হয়ে গেলেন। সুশান্ত তো হতবাক! তারপর সকলে স্বাভাবিক হল। কিন্তু এই গভীর চুম্বনই দৃশ্যটাকে পুরো আলাদা একটা মাত্রা দিয়ে দিল। অর্থাত্‍ দৃশ্যটায় যে অবিশ্বাস, টেনসন, সন্দেহের বাতাবরণের প্রয়োজন ছিল, সেটা ঠিকঠাক মাত্রায় যুক্ত হল।

স্বস্তিকার মনে আছে সেদিন কী ঘটেছিল? খুব পরিষ্কার করে মনে নেই। আসলে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। কতগুলো টেক হয়েছিল, তাও মনে নেই। আসলে দিবাকর এমন একজন পরিচালক যে ব্রিফ করার পরেও অভিনেতার ওপর দৃশ্যের অনেকটাই ছেড়ে দেয়। তাই কোনও টেক-এ হয়তো চুমু খেয়েছি, কোনওটায় খাইনি। কোনওটায় কেঁদেছি, কোনওটায় কেবল চোখে জল, কোনওটায় চোখ দিয়ে জলও পড়েনি। ওভাবে বলেও দেয়নি দিবাকর যে চুমু খেতেই হবে। পুরোটই আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল, এটুকু মনে আছে। আমি দৃশ্যের ডিমান্ডটা পূরণ করতে চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো, বলছেন স্বস্তিকা।

হতে পারে সুশান্তকে না জানিয়ে, তার অবাক হওয়ার দৃশ্যটায় অনেকখানি প্রাণ সঞ্চার করা গেল। টেনশন, সাসপেন্স তৈরি করা গেল। পরিচালক খুশি হলেন। কিন্তু সুশান্ত-এর কেমন লাগলো এমন এক সারপ্রাইজ? বলা নেই, কওয়া নেই হঠাত্‍ করে অভিনেত্রীর থেকে এমন এক আকস্মিক চুম্বন পেয়ে? জানা যাচ্ছে, সুশান্ত প্রাথমিকভাবে ব্যাপারটায় মোটেই তেমন খুশি হননি। ব্যাপারটার পর ধাতস্থ হতেও তাঁর খানিক সময়ে লেগেছে। এমন একটা ঝটকা! দীর্ঘ এক স্মুচ, যা দৈর্ঘ্যে পিছনে ফেলে দেবে রাজা হিন্দুস্থানিতে আমির খান আর করিশমা কাপুরের স্মুচকেও। ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সীর এই চুম্বন যে বলিউডের একটি ঐতিহাসিক দৃশ্য হতে চলেছে, সে ব্যাপারে একমত হয়েছেন ইউনিটের অনেকেই। আর সবচেয়ে বড় পাওনা, সেই দৃশ্যের রাশ ছিল এক বাঙালি অভিনেত্রীর হাতে, যাঁর প্রথম হিন্দি ছবিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন, আবারও, যে দৃশ্যে সাফল্য আনতে তিনি নিজেকে কতটা ভাভতে পারেন।

উপরে