ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

মুশফিক যা বললেন জিম্বাবুয়ে টেস্ট নিয়ে

২০১৪ অক্টোবর ২৪ ২০:৩২:৫৫
মুশফিক যা বললেন জিম্বাবুয়ে টেস্ট নিয়ে

বাংলাদেশে টেস্ট খেলবে জিম্বাবুয়ে প্রায় ১০ বছর পর। শনিবার বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার প্রথম টেস্ট শুরু হচ্ছে।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ১০টায়। এর আগে ১১টি টেস্টে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে দুই দল।

জয়ের পাল্লা ভারী জিম্বাবুয়েরই। জিম্বাবুয়ের ছয়টি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুটি টেস্টে। বাকি তিনটি ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের খেলা মানেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

দুই দলের শক্তি-সামর্থ্যরে ফারাকটাও বেশি নয়। তবু ঘরের মাঠে নিজেদের এগিয়ে রাখছেন টাইগার-দলপতি মুশফিকুর রহিম।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট সিরিজ নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুশফিকুর রহিম। পাঠকদের জন্য তা দেওয়া হলো :

প্রশ্ন : জিম্বাবুয়েকে পেয়ে জেতার ভালো সুযোগ আছে। জিম্বাবুয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে কি আপনারা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী?
মুশফিকুর রহিম : অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এই বছরটি ভালো যাচ্ছে না। ‘সুযোগ’ আমরা এই অর্থে বলি, এই বছরে ম্যাচ জেতার অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা মিস করেছি। মাঠে আমাদের বাজে পারফরমেন্সের কারণেই এ রকমটা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজটাও আমাদের একটা সুযোগ। যেহেতু আমাদের মাঠে খেলা হয়তো আমরা কিছুটা এগিয়ে থাকব। কিন্তু এটা চিন্তা করে বসে থাকলে ভুল হবে। জিম্বাবুয়ের প্রায় ছয় ক্রিকেটার ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগ খেলে গিয়েছে। ওরা কিন্তু ভালো খেলেছে। আমাদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে তারা।

প্রশ্ন : এই সিরিজে জয় পেলে জিম্বাবুয়ের থেকে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবেন। বিষয়টি আপনিও অবগত। কীভাবে দেখছেন টেস্ট সিরিজকে?
মুশফিকুর রহিম : র‌্যাংকিংয়ের দিকে তো খেয়াল আছেই। তবে আমাদের মেইন ফোকাস টেস্ট সিরিজে। আমাদের প্রসেসগুলো ঠিক রাখছি। যদি সেগুলো ঠিক থাকে, তাহলে রেজাল্ট ও র‌্যাংকিং দুটোই আমাদের পক্ষে থাকবে। আমরা চেষ্টা করব প্রসেসগুলো যেন ঠিক থাকে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- এই বেসিক জিনিসগুলো ঠিক রাখতে হবে। জয়ের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সেই বেসিক জিনিসগুলো ঠিক রাখতে হবে।

প্রশ্ন : পুরো বছরটি আমাদের ভালো যাচ্ছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কি ভালো করার সুযোগ আছে?
মুশফিকুর রহিম : হ্যাঁ, এই বছরটা আমাদের অনেক খারাপ গেছে। পারফরম্যান্সের কারণে এ রকমটি হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ভালো করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে ভালো করার এটি আমাদের একটা সুযোগ। যারা রান করতে পারেনি তারা যেন রানে ফিরে আসে। বড় বড় টিমের অনেক খেলোয়াড়, যেমন- মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা যারা আছেন, তারা আমাদের মতো দলের বিপক্ষে সব সময় ভালো করার চিন্তা করেন। চিন্তা করেন যত বেশি রান করা যায় তত বেশি রান করা। বড় বড় ইনিংস খেলা। আমাদেরও যদি এ রকম কোনো সুযোগ আসে, তাহলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে সেই সুযোগটি নিতে হবে। সব সময় আমাদের ডমিনেট করে খেলার সুযোগ আসে না। এবার চেষ্টা করব প্রথম থেকেই ডমিনেট করা এবং পাঁচ দিন ডমিনেট করার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : নিজেদের মাঠে খেলছেন বলে কি অতিরিক্ত চাপে রয়েছেন?
মুশফিকুর রহিম : আপনি যখন হোমে খেলবেন তখন স্বাগতিক দর্শকদের চাপ থাকবে। এটা আমরা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করি। এটা অনেক সময় সামলে ভালো ফলাফল করেছি। অনেক সময় করতে পারিনি। এই সময়ে আমাদের একটা জয় দরকার। এবং জয়ের জন্য আমাদের যা যা করা দরকার, তা আমরা করেছি। এখন শুধু মাঠে প্রমাণ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ কালকে (শনিবার) থেকে সব করব। আশা করছি, এই সিরিজটি আমরা জিতব।

প্রশ্ন : উইকেট নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কীরূপ?
মুশফিকুর রহিম : পেস বোলারদের জন্য উইকেটে কিছু থাকতে পারে। পাঁচ দিন একই উইকেটে খেলা হবে। দিন যত যাবে উইকেট তত স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে। লো অর টার্ন হতে পারে। যে রকমই উইকেট হোক, আমাদের বোলিং আক্রমণকে তা সুট করবে। উইকেট যেরকমই হোক, মূল কাজ আমাদের করতে হবে। যত সাহায্যই পান, ভালো জায়গায় বল করতে না পারলে ব্যাটসম্যানদের উইকেট পাওয়া কষ্টকর হবে। ক্যাচগুলো ঠিকমতো নিতে হবে। সর্বোপরি শেষ এক মাস ধরে যেই প্রস্তুতি নিয়েছি, সেগুলো মাঠে ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারলে রেজাল্ট আমাদের পক্ষেই আসবে।

প্রশ্ন : প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা গেল, ব্যাটসম্যানরা হাফ-সেঞ্চুরিতে সন্তুষ্ট। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
মুশফিকুর রহিম : না, এটা কখনোই না। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, একটা টেস্ট জিততে হলে ৪০০ কিংবা তার বেশি রান করতেই হবে। তাহলে অনেক এগিয়ে থাকা যায়। কখনোই আটটা বা দশটা ব্যাটসম্যান ফিফটি করতে পারে না। সেজন্য একজন কিংবা দুজনের একটা বড় ইনিংস খেলতেই হবে। বড় বড় দলের খেলোয়াড়রা তা-ই করে। আমরাও চেষ্টা করছি। কিছু কিছু ব্যাটসমান চেষ্টা করছে। অনুশীলনে সময় দিচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচে অনেকে রান পেয়েছে। এরপর তাদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কিছু খেলোয়াড়ের সুযোগ ছিল ইনিংস বড় করার । দুর্ভাগ্যবশত হয়নি। কিন্তু অনেক দিন পর তারা মাঠে নেমে উইকেটে অনেকক্ষণ ধরে খেলেছে, সেটা ইতিবাচক দিক। আমরা আশা করছি, আমাদের ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে খেলবে।


প্রশ্ন : আমাদের তরুণ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনের খেলার সম্ভাবনা কতটুকু?
মুশফিকুর রহিম : যেহেতু আমাদের স্কোয়াডে আছে এবং আমাদের উইকেট স্পিন-নির্ভর, তাই তার খেলার চান্স অনেক বেশি। তার সঙ্গে তাইজুল ও সাকিব আছে। সাকিব কোন মাপের বোলার, তা সবাই জানে। তাইজুল ও লিখন অনভিজ্ঞ হলেও তারা ছোটবেলা থেকে এই আবহাওয়ায় খেলে আসছে। টেস্ট ম্যাচ ভিন্ন। তাইজুল দুটি ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলে এসেছে। লিখনও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো করেছে। আমরা আশা করব, তিন স্পিনারই যেন ডমিনেট করে। আমাদের মেইনলি ফোকাস থাকবে ফিল্ডিং সাইড নিয়ে। আমরা যেন তাদের ব্যাকআপ করতে পারি, তাহলে একটা টিমওয়ার্ক হবে।

প্রশ্ন : জিম্বাবুয়ের দলে দুজন লেগ স্পিনার, বাড়তি কোনো চিন্তা আছে ওদেরকে নিয়ে?
মুশফিকুর রহিম : ওদের নিয়ে চিন্তা আছে। আসলে ওদের লেগ স্পিনারসহ স্পিন স্কোয়াড অনেক অনভিজ্ঞ। আমাদের চিন্তা থেকে তাদের চিন্তাটা আরো দ্বিগুণ থাকবে। স্পিন উইকেট-নির্ভর পিচ মোটামুটি হবে। সেদিক থেকে স্পিনারদের বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। চাপটা তাদের ওপর বেশি থাকবে।

প্রশ্ন : নিজেদের কোন দিকটা সবচেয়ে স্ট্রং এবং প্রতিপক্ষের কোন দিকটা চ্যালেঞ্জিং?
মুশফিকুর রহিম : যেহেতু সাকিব ফিরে আসছে, সেদিক থেকে বলব আমাদের বোলিং শক্তিটা আরো বেড়ে গেছে। ব্যাটিং শক্তিটাও বেড়েছে। তামিম শেষ সিরিজে ভালো খেলেছে। শামসুর রহমান প্রস্তুতি ম্যাচগুলো ভালো খেলেছে। শুভাগত, রিয়াদ (ভাই) ও মুমিনুল ফর্মে আছে। আমাদের মূল শক্তি আমাদের টপ অর্ডারের ৭ ব্যাটসম্যান। এরপর আমাদের স্পিন, পেস আক্রমণ। আমার মনে হয়, প্রথম দুই দিন পেস বোলারদের জন্য সুবিধা থাকবে। সেই জায়গা থেকে আমাদের পেসারদের থেকেও হেল্প আশা করব। এ ছাড়া ওদের ভালো ব্যাটসম্যান আছে। যার আগে এই কন্ডিশনে খেলে গেছে। ওদের চাপে রাখতে হবে। সেই সুযোগটা আমাদের নিতেই হবে। টেলর, মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা, যারা আছে তাদের চাপে রাখার চেষ্টা থাকবে। আমরা যদি ভুল খুব কম করি, তাহলে এই টেস্ট আমরাই জিতব।

প্রশ্ন : আমাদের কি দুই উইকেটে ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে?
মুশফিকুর রহিম : হ্যাঁ, আমি তো তা-ই মনে করি। আমাদের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো সামর্থ্য আছে। শুধু এখন ফিল্ডিং সেটআপ ঠিকমতো করতে হবে। সেটার জন্য শর্ট ক্যাচিং, হাই ক্যাচিং- সবকিছুই করছি। আশা করছি, সেটা ঠিকমতো করবে। বোলাররা সেই সুযোগটি তৈরি করে দেবে এবং আমরা সেই সুযোগগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে হবে। ২০ উইকেট নেওয়ার মতো যথেষ্ট বোলার আছে। শুধু সাকিবের ওপর নির্ভর নয়। এটা আমার জন্য খুশির কথা যে সাকিব ছাড়াও আরো দু-তিনজন বোলার আছে, যাদের ওপর ভরসা করা যায়। এটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট।

প্রশ্ন : ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) কি আপনাদের জন্য ইতিবাচক?
মুশফিকুর রহিম : ডিআরএস সিস্টেম এই সিরিজে থাকছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা ডিআরএস পদ্ধতিতে কিছু সাফল্য পাই। এই পদ্ধতিটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা সিদ্ধান্ত এদিক-ওদিক হলে পুরো ম্যাচের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর আগেও এ রকম হয়েছে। আশা করছি, সবকিছু যেন আমাদের পক্ষেই থাকে এবং ভালো রেজাল্ট যেন হয়।

প্রশ্ন : অধিনায়কত্ব ভাগ হওয়ার পর এই প্রথম খেলছেন। অনুভূতিটা ব্যক্ত করবেন?
মুশফিকুর রহিম : আসলে সে রকম কোনো অনুভূতি নেই এখন। এখনো ও রকম কিছু মনে হচ্ছে না যে আমি অন্য কোনো ফরম্যাটে অধিনায়ক নেই। এখনো কোনো গ্যাপ হয়নি। হয়তো বা এই সিরিজটি শেষ হওয়ার পর মনে হবে যে কোনো জিনিস আমার থেকে চলে গেছে। তারপর আমি এনজয় করার চেষ্টা করব। যতটুকু দায়িত্ব আছে, সেটা পালন করব। দলের জন্য উপকার হয়, তাহলে যখনই বলবে তখনই অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াব। যেটা আমার মেইন কাজ এবং যেটার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা পালনের চেষ্টা করব। আমার হাত দিয়ে যেন টিমটা আরো ভালো খেলে এবং টিম হিসেবে যেন এই বছরে বাংলাদেশকে কিছু দিতে পারি।

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর

উপরে