ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

নায়ক থেকে ভাঁড় হলেন অনন্ত!

২০১৪ অক্টোবর ১২ ২২:৫৮:৩৩
নায়ক থেকে ভাঁড় হলেন অনন্ত!

ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশ টিভিতে সাতদিন ব্যাপী অনন্ত জলিলের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। সেখানে প্রাণ আপ নিবেদিত ফেস টু ফেস

with Ananta অনুষ্ঠানে অনন্ত জলিল সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সাক্ষাতকার নেন। সাক্ষাতকারে অনন্ত জলিল মন্ত্রীকে বিভিন্ন কথাবার্তা জিজ্ঞাসা করেন। অনন্ত জলিল মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতিসহ চলচিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

কিন্তু একজন টেলিভিশন উপস্থাপক হতে হলে যেটুকু যোগ্যতা থাকা দরকার, উচ্চারণ বা বাচনভঙ্গী তার ধারে কাছে যান না অনন্ত জলিল। হ্যা বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে! নায়ক হিসেবে অনন্ত জলিল অনেক উঁচুতে তাই বলে তিনি অন্য কাজেও পারদর্শী হবেন এমন কোনো কথা নেই। একবার বিজ্ঞানী নিউটন তার কুকুরের ঘর বানাচ্ছিলেন। সে ঘরের দুটি দরজা বানালেন তিনি। পাশে দাঁড়ানো তার ভৃত্য মনিবকে জিজ্ঞেস করল ভয়ে ভয়ে, হুজুর দুটো দরজা কেন? নিউটন বললেন, একটি বড় কুকুরের জন্যে, আরেকটি বাচ্চা কুকুরের জন্যে। তো ভৃত্য বলল, হুজুর ছোট কুকুরটি তো বড় কুকুরটির জন্যে নির্ধারিত দরজা দিয়ে ঢুকতে পারবে তাই না? নিউটন ভৃত্যের পরামর্শ কবুল করে কুকুরের ঘরে একটি দরজাই রাখলেন।

অনন্ত আমাদের দেশের গর্ব। বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে তার রয়েছে বেশ সুনাম। কিন্তু তাকে দিয়ে টেলিভিশনে উপস্থাপনা করলে তিনি যে খাপ খাইয়ে যাবেন তার কোনো গ্যারান্টি নেই। হয়ত আয়োজকরা ভারে কাটতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেজন্যেতো কিছুটা ধার লাগে। ধার কিংবা ভার কিছুই ছিল না অনন্তের উপস্থাপনায়। অনুষ্ঠান চলাকালিন সময়ে তিনি বলেন, আমি যখন ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে যাই, তখন আমার পার্টনাররা আমাকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কোন দেশের? যখন আমি বলি বাংলাদেশের তখন তারা আমার দেশের জন্য গর্ববোধ করেন।

অনন্ত জলিল বাংলাদেশের চলচিত্রের পরিচালক, প্রযোজক এবং নায়ক সবই। অনন্ত জলিল মন্ত্রীর যখন সাক্ষাতকার,নেন, তখন উপস্থাপক হিসেবে তার যে রকম আচার আচরণ ভঙ্গিমা থাকা উচিত ছিল, সেটা তার মধ্যে মোটেও ছিল না। অনন্ত জলিল মন্ত্রীর সাথে এমন ভাবে কথা বলেন মনে হচ্ছে অনন্ত জলিল নিজেই সাক্ষাতকার দিতে এসেছেন। উপস্থাপক হিসেবে একজন মন্ত্রীর সাথে যে ভাবে কথা বলা উচিত, তিনি সেটা সেভাবে বলতে পারেন নি। হয়ত অনন্ত ভারতের অভিনয় গুরু অমিতাভ বাচ্চনের উপস্থাপনা দেখেছেন। কিন্তু তা আয়ত্বে নিতে পারেননি।

তিনি আসাদুজ্জামান নূরের সাক্ষাতকার নেওয়ার সময় কিছু কিছু বাক্য ইংরেজিতে উচ্চারণ করেন। কিন্তু সেখানে তিনি ইংরেজি বাক্যগুলো শুদ্ধ ভাবে উচ্চারণ করতে পারেন নি। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করেননি। সেখানে তিনি নিজের নাম অনন্ত’র জায়গায় আনান্তা বলে ফেলেছেন।

তিনি একজন পরিচালক, প্রয়োজক এবং নায়ক হিসেবে তার আচরণ এভাবে হওয়া মোটেও ঠিক না। কারণ তার ওই অনুষ্ঠান শিশু থেকে যুবা, তরুণী থেকে বৃদ্ধা অনেকেই দেখেছেন।

অনন্ত জলিল বাংলাদেশের সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে আমার ছবিতে কাজ করি। কিন্তু যখন ছবির শর্টগুলো নেন তখন দেখা যায় শুটিং স্পটগুলো অন্য দেশের। তা সে হতেই পারে। হয়ত গ্লোবাল ভিলেজের অংশ ভেবেই অনন্ত এটা করেন। কিন্তু সেটা করতে যেয়ে কাকের লেজে ময়ূরের পুচ্ছ না লাগালেই পারেন।

অনুষ্ঠানের আরেক মাজেজা ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রীর মত একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, শক্তিশালী অভিনেতা এসব নিম্নস্তরের ভাঁড়ামি সহ্য করলেন কিভাবে। হয়, সবই হয় কিসের জোরে তা অনেকে না বুঝলেও ধারণা তো করতে পারেন। কিন্তু তারপরও কষ্ট লাগে। ভক্ত হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রী কিংবা অনন্তের জন্যে এ আফসোস অনেক দিন অনেকের থেকে যাবে

উপরে