ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪

শাবনূরের বাবার চমকপ্রদ অজানা কাহিনী

২০১৪ আগস্ট ১৪ ১৩:৫৯:০৪
শাবনূরের বাবার চমকপ্রদ অজানা কাহিনী

সঙ্গত কারণে চিত্রনায়িকা শাবনূরের শৈশবকালীন কোনো স্মৃতি। শাবনূরের মা আমেনা বেগম কাজী নাসিরের প্রথম স্ত্রী নন।

প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের বড় ছেলে কাজী শামসুল আলম মঞ্জুল তার বাবা-মায়ের পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিশদ বর্ণনা করেন। ১৯৬৫ সালে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের আবদুল আহাদের কন্যা শামসুন্নাহারের সঙ্গে পারিবারিকভাবেই তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

কাজী নাসিরের স্ত্রী শামসুন্নাহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে হিসাব নিরীক্ষণ অফিসার হিসেবে এজি অফিসে যোগদান করেন। তার পিতা আবদুল আহাদও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাদের পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে দুটি পুত্র সন্তান জন্মলাভ করেন। ১৯৭০ সালে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। কাজী নাসিরের বড় ছেলে কাজী শামসুল আলম জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের সময় তার বয়স ছিল মাত্র এক বছর।

ছোট ভাই কাজী শাহাদত আলম তখন ছয় মাসের শিশু। বি”েছদের পর মঞ্জুলের মা শামসুন্নাহার তার নাম থেকে কাজী পদবীটি মুছে ফেলেন। পরে তিনি আর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে তার দুই ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন চালিয়ে যেতে থাকেন। তার বড় ছেলে কাজী মঞ্জুল রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চূড়ান্ত পর্বে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি আর ডাক্তার হতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে শামসুল আলম বলেন, পিতা-মাতার বি”েছদের কারণে শৈশবে পিতার আদর থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি প্রায়ই ডিপ্রেসনে ভুগতেন।

তার মা একাউন্টস অফিসার হিসেবে অবসর নিয়ে বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাজিতপুরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জায়গায় বাড়ি করে অসু¯’ ছেলেকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তার অন্য ছেলে একটি স্কুলে কর্মরত। কাজী শামসুল আলম জানান, ২০০৬ সালে হঠাৎ এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় তার পিতা তাদের বাড়িতে এসে উপ¯ি’ত হন। এক রাত পিতা ও পুত্র একই ঘরে অব¯’ান করেন। কাজী নাসির তার বি”েছদ হওয়া স্ত্রীর হাতের রান্না খেয়ে পরদিন তার গন্তব্যে চলে যান।

কাজী নাসির নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করতেন। বই বিক্রির সুবাদে তিনি টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রš’াগারের এসে চলমান একটি কবিতা অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠও করেন। সেখান থেকে খোঁজ করে তিনি শহরের বাজিতপুরে মঞ্জুলদের বাড়িতে যান। কাজী শামসুল আলম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, তার পিতা যেমন ছিলেন সুদর্শন, পাশাপাশি ছাত্র হিসেবেও তুখোড় ছিলেন। তিনি ব্যাংক, ওষুধ কোম্পানিসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাল বেতনে চাকরি করতেন।

বাংলা একডেমিতেও লোকসংগীত সংরক্ষণ অফিসার হিসেবে এক বছর চাকরি করেছেন। তিনি গীতিকার এবং নাট্যকার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। নানা বিষয়ে গ্রš’ রয়েছে বেশ কয়েকটি। এমন গুণী একজন মানুষের জীবন কেন এরকম হলো এ প্রশ্ন কাজী শামসুল আলম মঞ্জুলের। তাদের জীবন পরিবর্তিত হলেও মঞ্জুল তিার পিতাকে কখনও দোষারোপ করেন না। তার ভাষায়, তার পিতা অব¯’ার শিকার। তাদের জীবন কঠিন হলেও পিতাকে তিনি সব সময়ই মনেপ্রাণে সম্মানের ¯’ানে রাখতেন। তিনি বলেন, ঢাকায় অব¯’ানকালীন সময়ে একবার শাবনূরদের বাসায় গিয়েছিলেন।

ভালো ব্যবহার না পাওয়ায় আর কখনও ও মুখো হননি। কাজী নাসিরের পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাঘমারা গ্রামের হলেও তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪১ সালের ৪ঠা এপ্রিল পাবনা শহরে। তার পিতা কাজী ওয়াহেদ হোসেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ পাস করে শান্তিনিকেতনে শিক্ষকতা করতেন। কাজী নাসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। নেন্সেল ম্যান্ডেলার সঙ্গেও তিনি দেখা করে ছিলেন। পিতার অস্বাভাবিক মৃত্যু পুত্র শামসুল আলমকে তাড়িয়ে বেড়ায়। পিতা কাজী নাসিরের মতোই বর্তমানে কিছুটা সু¯’ ছেলে কাজী শামসুল আলমও নিয়মিত কবিতা চর্চা করেন।

ঢালিউড এর সর্বশেষ খবর

ঢালিউড - এর সব খবর

উপরে