ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ রাজেশ খান্না ছিলেন বলিউডের প্রথম সুপারস্টার

২০১৪ জুলাই ১৮ ১৩:২৮:৪১
মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ
রাজেশ খান্না ছিলেন বলিউডের প্রথম সুপারস্টার

সব মৃত্যুই চিরতরে চলে যাওয়া নয়। যারা কর্মের গুণে পৃথিবীকে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করেন তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকেন তাদের সেই কর্মের মাধ্যমেই।

তেমনই এক আলোকোজ্জ্বল মানুষ বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। ২০১২ সালের আজকের দিনে বলিউড তথা বিশ্ব সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই দাপুটে অভিনয়শিল্পী। আজ তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। শান্তশিষ্ট, বন্ধুবৎসল ও সদা হাস্যোজ্জ্বল চাপা স্বভাবের রাজেশ খান্না নিজের অসামান্য অভিনয়গুণে ভারতসহ সারা বিশ্বের দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা খুব কম অভিনেতার ক্ষেত্রেই ঘটেছে। রাজেশ খান্না ছিলেন বলিউডের প্রথম সুপারস্টার। তার আগে বলিউডে এতটা জনপ্রিয়তা কোন তারকাই লাভ করেননি। ১৯৪২ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণ করেন রাজেশ খান্না। তার বাবা-মায়ের এক আত্মীয় দম্পতি দত্তক নিয়েছিলেন রাজেশ খান্নাকে। তাদের মায়া মমতাতেই বেড়ে উঠেন তিনি। তখন তার নাম ছিল যতীন খান্না। পরবর্তী সময়ে নাম পাল্টে তিনি হয়ে যান রাজেশ খান্না। তার স্কুল জীবনের বন্ধু ছিলেন আরেক স্বনামধন্য অভিনেতা জিতেন্দ্র। পরে কলেজ জীবন থেকেই থিয়েটারে কাজ শুরু করেন রাজেশ খান্না। সে সময় অনেক পুরস্কারও তিনি জিতেছিলেন অভিনেতা হিসেবে। ওই সময় তার বন্ধুরা তাকে নাম দিয়েছিলেন কাকা। পরবর্তীতে দর্শকদের কাছেও কাকা নামে পরিচিতি পান তিনি। ১৯৬৫ সালে ইউনাইটেড প্রডিউসারস ও ফিল্মফেয়ার আয়োজিত ‘অল ইন্ডিয়া ট্যালেন্ট কনটেস্ট’ এ প্রায় দশ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হন রাজেশ খান্না। পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে চেতন আনন্দ পরিচালিত ‘আখরি খত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। ১৯৬৭ সালে ‘রাজ’ ছবিতে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় চলে আসেন রাজেশ খান্না। এরপর ইউনাইটেড প্রডিউসারসের ব্যানারে একাধিক ছবিতে কাজ করেন। মূলত আরাধনা, আনন্দ, ডোলি, ইত্তেফাক, অউরাত, বাহারো কে সাপনে ছবিগুলোর মাধ্যমে সুপারস্টারে পরিণত হন তিনি। এরপর একে একে অসংখ্য সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে বলিউডের সবচাইতে রোমান্টিক নায়কে পরিণত হন। ছবির পাশাপাশি রাজেশ খান্নার লিপে কিশোর কুমারের গাওয়া একাধিক গান আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করে। ব্যক্তিগত জীবনে অঞ্জু মেহেন্দ্রু নামের এক ফ্যাশন ডিজাইনার ও অভিনেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল রাজেশ খান্নার। কিন্তু পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে ১৯৭৩ সালের মার্চে ডিম্পল কাপাডিয়াকে বিয়ে করেন। তাদের কোলজুড়ে আসে দুই কন্যা টুইঙ্কেল খান্না ও রিংকি খান্না। ১৯৮৪ সালে আলাদা থাকা শুরু করেন রাজেশ ও ডিম্পল। তবে তারা ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতায় যাননি। এদিকে রাজেশ খান্নার বড় কন্যা টুইঙ্কেল খান্নার সঙ্গে পরে বিয়ে হয় অক্ষয় কুমারের। সেই হিসেবে রাজেশ খান্না হলেন অক্ষয়ের শ্বশুর। অভিনয় ছাড়াও ১৯৯২ সালে তিনি কংগ্রেস পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে সব সময়ই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। রাজেশ খান্না অভিনয় করেছেন প্রায় ১৬৩টি ছবিতে। বেশ কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাকও করেছেন তিনি। শেষের দিকে প্রযোজনাও করেছেন কয়েকটি ছবি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত পরপর ১৫টি সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন বলিউডে। তার এ রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে দো রাস্তে, আরাধনা, রোটি, আনন্দ, আবতার, নামক হারাম, সাচ্চা ঝুটা, আজকে এমএলএ, কাটি পাতাঙ্গ, অমরদিপ, ফির ওহি রাত, দর্দ, কুদরত, ধনওয়ান, অশান্তি, জানোয়ার, হাম দোনো, বাবু, ইনসাফ মে কারুঙ্গা, নাজরানা, আঙ্গারে, অমর প্রেম, মেরে জীবন সাথী, হাতি মেরে সাথী, আঁচল, আলাগ লালাগ, আপনা দেশ, শেহজাদা, অনুরোধ, মেহবুবা, বাফা প্রভৃতি। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে রাজেশ খান্না দাদা সাহেব ফালকে, প্রাইড অব দ্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, কলা রত্ন, অপ্সরা, জি সিনে, আইফা, ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন।

উপরে